বারহাট্টায় জমে উঠেছে কোরবানীর জমজমাট পশুর হাট

আপডেটঃ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০২১

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: হঠাৎ করে তৃতীয় ঢেউয়ে করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষিত ০১-০৭-২০২১ থেকে ১৪-০৭-২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেন সরকার। ১৪ তারিখের পর যদি আবার লকডাউন থাকে তাহলে কোরবানীর পশু কি ভাবে কিনবে ? এ প্রশ্নটি জেগে উঠে যারা এবার কোরবানী করবে তাদের মনে। কেউ বলেছে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানী কিনতে হবে। কেউ বলেছে ফেসবুকের মাধ্যমে কোরবানী কিনতে হবে। এসব সকল প্রকার জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষ লকডাউন সরকার তুলে নেওয়ায় নেত্রকোনার বারহাট্টায় শনিবার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম খেলার মাঠ পশুর হাটে জমে উঠেছে কোরবানীর জমজমাট পশুর হাট। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম থেকে সকাল থেকে পশু বিক্রেতারা পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছে। শুধু উপজেলার নয়, অন্য উপজেলার দুর দুরান্ত থেকেও পশু বিক্রেতারা তাদের পশু নিয়ে এসেছেন পিকআপ ভ্যানে করে। আর ক্রেতা ভাইরাও অনেক দুর দুরান্ত থেকে কোরবানীর পছন্দের পশুটি কিনতে এসেছেন। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন পশু ক্রয় ও বিক্রয়ের মিলনমেলা। বিক্রেতা ভাইয়েরা পশুটি বিক্রয় করে স্বস্থি আর ক্রেতা ভাইয়েরা পশুটি ক্রয় করে স্বস্থি। পুরো হাটে দেশী-বিদেশী প্রজাতির পশু, ছাগল ছিল চোখে পড়ার মত। ছোট, বড় ও মাঝারি ধরণের পশু হাটে আসলেও দাম ছিল ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও কম নয়। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি করে বিভিন্ন রঙের ছোট বড় মাঝারী পশু গুলি বেধে রাখা হয়েছে। প্রায় সারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ক্রেতারা শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে ইজারাদারদের অনুরোধ করতে দেখা গেছে। গরু ক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন আমার পশুটি ১ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছি। বাজারের অবস্থা ক্রেতাগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আছে। বাজারের অন্যান্য লোকজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ছোট সাইজের একটি পশু ৫০-৬০ হাজার, মাঝারি ধরণের পশু ৭০-৮০ হাজার ও বড় পশু এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বড় পশু বেচা কেনা অনেক কম বল্লেই চলে। আগামী বাজারে বড় পশু বেচা কেনা হবে বলে আশা করছি। সানিয়াপাড়া গ্রামের পশু বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, আমি দেশীয় প্রজাতির মাঝারী ধরনের একটি পশু ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছি। আমার দৃষ্টিতে আমি আমার ন্যায্য দাম পেয়েছি। আমি তাতে সন্তোষ্ট। বাজারের ইজারারের লোক শামছুদ্দিন বলেন, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম খেলার মাঠ পশুর হাটটি পরিচালনা করে আসছি। ক্রেতা- বিক্রেতাদের যতুটুকু সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা আমরা দেওয়ার চেষ্টা করছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মহি উদ্দিন জানান, অফিসের ভেটেরেনারী একটি টিম পশুর হাটে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে অবৈধ ভাবে কোন পশু কে মোটাতাজা করার জন্য কোন ঔষধ প্রয়োগ করতে না পারে।