টার্মিনাল-পশুর হাটে ভিড় করলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসবে: ওবায়দুল কাদের

আপডেটঃ ৭:৩০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার: দায়িত্বহীনভাবে ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, পশুর হাটে বাঁধভাঙা ভিড় সৃষ্টি করলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণ ঠিকমত মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ‘লকডাউনের’ প্রয়োজন হয় না। আর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে উদাসীনতা প্রদর্শন করলে ‘লকডাউন’ অর্থহীন। ঠিকমত মাস্ক পরিধান করোনা সংক্রমণ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। করোনার সংক্রমণ এখন শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। একটা সময় অনেকে মনে করতেন গ্রামের মানুষের করোনা হবে না। এ ধারণা ভুল প্রমাণ করে ভাইরাসের সংক্রমণ এখন গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সংক্রমণ আগের দিনের হারকে অতিক্রম করে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় মাস্ক পরার পাশাপাশি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
ওবায়দুল কাদের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবীসহ দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলকে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ক্যাম্পেইন পরিচালনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, হাট-বাজারে বা চায়ের দোকানে জটলা তৈরি না করে সতর্কভাবে চলাফেরা ও মাস্ক পরিধানের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। নিজের সুরক্ষার জন্য সতর্ক না হলে, উদাসীনতা দেখালে কেউ আমাদের সুরক্ষিত করতে পারবে না।  এক সময় হয়তো হাসপাতালে বেড বাড়িয়েও রোগী সামাল দেওয়া যাবে না। সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামজিক দূরত্ব বজায়সহ অন্যান্য সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক।
‘লকডাউনকে’ ফাঁকি দেওয়া গেলেও করোনাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। তার প্রমাণ অতিসংক্রমণ ও মৃত্যুর উচ্চ হার উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেও উৎসবের যে সুযোগ করে দিয়েছেন তার সদ্ব্যবহার করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানাই। কেউ যেন দায়িত্বহীনভাবে ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও কোরবানির পশুর হাটে বাঁধভাঙা ভিড় সৃষ্টি না করে সেদিকে সবাইকে কঠোর সতর্কতা হওয়ার আহ্বান জানাই। তা না হলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসবে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
করোনার এ সংকটকালে এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায়, দুস্থ, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।
পাশাপাশি দলের দুখী, অসহায় ও অসুস্থ কর্মীদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দলের সামর্থ্যবান ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন একমাত্র কর্মসূচি হচ্ছে অসহায় মানুষের পাশে থাকা।