কোরবানির জন্যে প্রস্তুত পূর্বধলা কলেজ শিক্ষকের যুবরাজ, দাম হেঁকেছেন ১১লাখ

আপডেটঃ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | জুন ৩০, ২০২১

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের বানিয়াকান্দা গ্রামের যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিন ভাই ভাই ডেইরি খামারে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। এটিই উপজেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশু, এমনটাই দাবি খামার মালিক কলেজ শিক্ষক তুহিন মোজাম্মেল হকের। এদিকে এলাকাবাসী বলছেন শিক্ষকতার পাশাপাশি খামার প্রতিষ্ঠা করে দেশের যুব সমাজের পথিকৃত হয়েছেন তুহিন, দেশের বেকার সমাজকে দেখিয়েছেন বেকারত্ব ঘুচানোর পথ।

যুবরাজের মালিক বানিয়াকান্দা গ্রামের তুহিন মোজাম্মেল হক পূর্বধলা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ছোট একটি গরুর খামার। গত ৪বছর আগে ৫২ হাজার টাকায় কেনা একটি ফ্রিজিয়ান গাভী দিয়ে শুরু করেন এই খামারের পথচলা। খামার চালু হওয়ার কয়েকমাস পরেই জন্ম হয় যুবরাজের। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে কলেজ শিক্ষক তুহিনের খামার। বর্তমানে অন্যান্য গরুসহ খামারে গরুর সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন তিন বছর বয়সী ১ হাজার ২২৩ কেজি তথা প্রায় ৩১ মণ ওজনের এই ফ্রিজিয়ান জাতের যুবরাজকে। দাম হেঁকেছেন ১১ লাখ টাকা।

তুহিন জানান, অবসর সময়ে তিনি গরু খামারের পরিচর্যার কাজ করে থাকেন। খামার দেখাশোনা করার জন্যে তিনি দুজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই যুবরাজ এবং তার ডেইরি খামার। ষাঁড়টিকে দেশীয় খাবার দিয়ে লালনপালন করা হয়েছে। প্রতিদিন গম, নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি, ধানের গোড়া, মশুরের ডালের ভুসি খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষক তুহিন মোজাম্মেল হকের এই উদ্যোগে উদ্ভুদ্ধ হয়েছেন এলাকার যুবসমাজ। গ্রামে এখন বেশ কয়েকটি খামার গড়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর ধারনা, কলেজ শিক্ষক তুহিন মোজাম্মেল হকের এই উদ্যোগ শুধু এলাকা নয় সারাদেশবাসীর পথিকৃৎ হয়ে থাকবে। বেকার সমাজের সামনে উন্মোচিত হবে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার এমনটাই ধারণা এলাকাবাসীর।

বৈশি^ক দুর্যোগ করোনার প্রাদুর্ভাব এখন চরমে। তাই দুশ্চিন্তার ছাপ খামারিদের কপালে। এমতাবস্থায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ন্যায্য দামে বিক্রী হবে কোরবানির পশু, সরকারিভাবে ও অনলাইনে করা হবে বেচাকেনার ব্যবস্থা এমনটাই প্রত্যাশা জেলার খামারিদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর জানান, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১লক্ষ গবাদি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গরু মোটাতাজাকরন হচ্ছে। এগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে পরামর্শসহ টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনেও গরু কেনা বেচা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।