ব্রেকিং নিউজঃ

বিএনপিতে নেতৃত্বের কোনো সংকট নেই: ফখরুল

আপডেটঃ ৮:২৪ অপরাহ্ণ | জুন ২৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : অতীতের চেয়ে বিএনপি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আছে এমন দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপিতে নেতৃত্বে কোনো সমস্যা নেই। তারেক রহমান সাহেব এই দুর্দিনে সুদূর লন্ডন থেকে যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই নেতৃত্বে গোটা দল আজ ঐক্যবদ্ধ।’

রবিবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল, এটা একটা পেট্রোজেনিয়াস পলিটিক্যাল পার্টি, কোনো মনোবৃত্তিক পলিটিক্যাল পার্টিও নয়। ইটস এ প্ল্যাটফর্ম অব অল দি পেট্রোজিনিয়াস এলিম্যাটস। সেই জায়গায় কিছু কথা থাকবে, যেহেতু গণতান্ত্রিক দল সেখানে বিভিন্ন রকমের কথা-বার্তা থাকবে। কিন্তু আন্ডার দি লিডারশিপ অব তারেক রহমান বিএনপি ইজ ইউনাইটেড দেন দি পাস্ট। অতীতে যা ছিল তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আছে বিএনপি এখন। গত একযুগ ধরে যে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে তার মধ্যেও দেখে বিএনপি এখন পর্যন্ত সোজা মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দ্যাট ইজ দি রিজন যে, বিএনপি সত্যিকার অর্থে জনগণের দল, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই দল ধারণ করে আছে এবং তারেক রহমান সাহেব এই দুর্দিনে সুদূর লন্ডন থেকে যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই নেতৃত্বে গোটা দল আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে।’

বিএনপিকে নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে এই সরকার জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে এই রাষ্ট্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে, সে ব্যাপারে আমরা পত্র-পত্রিকায় সেই রকমের কোনো লেখা দেখি না। সেখানে বিএনপির সমালোচনা, বিএনপিকে নিয়ে উঠে পড়ার কারণটা কী থাকতে পারে? সারাক্ষণ বিএনপির বিরুদ্ধে, দ্যান বিএনপি ইজ এ ফ্যাক্টর এবং তারেক রহমান আরেকটা বড় ফ্যাক্টর। সে কারণে তারেক রহমান সম্পর্কে তৈরি করা, মনগড়া কথা-বার্তা সবাই লেখেন।’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। যারা বিএনপির বিরুদ্ধে লেখছেন তারা নিঃসন্দেহে ভুল তথ্য থেকে লেখেন, বিভ্রান্ত হয়ে লেখেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করেন। এটা আমি মনে করি যে, দিজ নট ক্রাইসিস অ্যাট দিস টাইম এবং পত্রিকাগুলো প্রায়োরিটি ফিক্সডআপ করতে পারছে না। প্রায়োরিটি শুড বি হেলথ-করোনা, প্রায়োরেটি শুড বি মেগা করাপশন, প্রাইয়োরেটি শুড বি ঢাকা টু গাজীপুর রোড, প্রায়োরেটি শুড বি দেয়ার ইজ নো বেড ইন দি হসপিটাল, নো অক্সিজেন, প্রণোদনা নাই, মানুষ খেতে পারছেন, চাকরিচ্যুত হচ্ছে মানুষ, নতুন করে দুই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। কোথায় এসব প্রতিবেদন? এসব কি বিএনপির একার দায়িত্ব। মিডিয়ার কী কোনো দায়িত্ব নেই। কোন দেশে গণতন্ত্র সফল হয়েছে মিডিয়ার একটা ভুমিকা ছাড়া।’

ওদের ভবিষ্যৎ ঘোরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত

‘বিএনপির ভবিষ্যৎ কুয়াচ্ছন্ন’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে উনারা এত উদ্বিগ্ন কেন? এই কারণে তারা মনে করেন যে, বিএনপি হচ্ছে একমাত্র রাজনৈতিক দল যা জনগণের ইচ্ছা-আশা-আশাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে, বিএনপির একমাত্র দল যে, যারা এই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ঘোরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত। এজন্য যে, তারা যে কাজগুলো করেছে এবং করছে গোটা জাতিকে তারা আজকে একটা অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।’

কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতার কয়েকটি পঙক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সময়ের অপেক্ষা। মানুষ যেই দিন জেগে উঠবে। সেইদিন আওয়ামী লীগ পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য প্রমাণ করেছে যে, সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতিমধ্যে সরকার সাত দিনের জন্য পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করেছে। যা এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে। সরকারের অযোগ্যতা এবং জবাবদিহিতা না থাকার কারণে লকডাউন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

কেন আপনারা লকডাউন তামাশায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কেন বলবো না? আপনারা (সরকারকে) এর আগে লকডাউন দিলেন। প্রথমে লকডাউন নয়, সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলো। তখন দেখা গেল, শ্রমিকরা একবার গেল আবার ফিরে এলো। আবার গতকালের সিনটা দেখেন, জেলার সঙ্গে তারা গাড়ির যোগাযোগটা বন্ধ করে দিলো, এখন লকডাউনের সাত দিনের ছুটি মনে করে একদল লোক পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে, আরেক দল ঢাকা ফিরছে। এইগুলো তারা আগে চিন্তা করবে না, কী হতে পারে?’