ডাক্তারি ও রাজনীতি! জনসেবাই মূখ্য তাঁর

আপডেটঃ ৭:৫০ অপরাহ্ণ | জুন ২৪, ২০২১

সদ্য বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ। যিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় অধীনে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে কর্মরত আছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ কতটা চ্যালেঞ্জ কিংবা সহায়কপূর্ণ? একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেছেন বিশেষ প্রতিনিধি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (সুমন)…

প্রতিবেদক: রাজনীতিতে আপনার শুরুটা হয়েছিল কিভাবে?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: সেই ২০০৭ সালে আমি মেট্রিক পরীক্ষার পক্ষ আমি যখন ঢাকা কলেজে ঢুকলাম তখন থেকেই আমার রাজনীতি জীবনের শুরু। সে সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাথে আমি সম্পৃক্ত হই এবং সেই সাথে লালবাগ থানা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদেও আমি আসীন ছিলাম। তখন থেকেই মূলত আমার রাজনীতির হাতেখড়িটা শুরু।

প্রতিবেদক: আপনি তো একজন চিকিৎসক। তো ডাক্তারি পেশায় থেকে রাজনীতি করার মতো বিষয়টি আপনার কাছে চ্যালেঞ্জের মনে হয় কিনা?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: না, এটা আসলে কোন চ্যালেঞ্জের বিষয় না। যেহেতু আমি ডাক্তার, সেবাটাই আমার মুখ্য। রাজনীতি করেও আমি মানুষের সেবা করতে পারব। দুটোর কম্বিনেশনে আমি যাতে মানুষের সেবা করতে পারি, মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়াতে পারি এই মেন্টালিটি থেকেই আমার রাজনীতি শুরু এবং রাজনীতি করা। ডাক্তারি পেশার আগে থেকেই কিন্তু আমি রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার কাছে মনে হলো, রাজনীতির পাশাপাশি আমি যদি ডাক্তার হই তাহলে মানুষের সেবা আরো কাছে থেকে করতে পারব। তখন মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগটা আরো বেশি পাব। তো সেজন্যই রাজনীতি ও চিকিৎসা দুটোই আমার কাছে এ অর্থে চ্যালেঞ্জের নয় বরং আমার কাছে মনে হয় রাজনীতি করলে মানুষের খুব কাছে যাওয়া যায় ডাক্তারি পেশার তুলনায়। কারণ হচ্ছে, আমি ডাক্তার থাকলে হয়তো একটা জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব। কিন্তু, রাজনীতিটা করলে আমি বৃহৎ পরিসরে প্রত্যেকটা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের খোঁজ-খবরও নিতে পারব এবং অসহায় মানুষদের জন্য আমার সেবার পরিধিটাও বাড়াতে পারব।

প্রতিবেদক: রাজনীতিতে এসে মানুষের কেমন সেবা করতে চান আপনি?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: দেখুন, স্বাধীনতার পর আমাদের দেশ যতটা উন্নতি হওয়ার কথা ছিল ততটার উন্নতির সোপানে আজো পর্যন্ত উঠতে পারিনি। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এদেশের স্বাধীনতাবিরোধীরা স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশকে লুণ্ঠনের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিল। যার ফলে এখানকার অর্থ-সম্পদ গরীবের ঘামের উপর তৈরি হলেও রাতারাতি সেগুলো নানা ফাঁকফোকরে পাচার হয়ে গেছে। এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল হাবুডুবু খেয়েছে। আর সেই দুরবস্থা থেকে এদেশকে টেনে তুলতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গত ১২ বছর ধরে যে ধরনের উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে তা ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এই উন্নয়নে অংশীদার হতে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, চিকিৎসা, বেকারত্ব, নিরক্ষরতার মতো অভিশাপ মুছে ফেলার ব্রত নিয়েই আমি ছোটকাল থেকে রাজনীতি করে আসছি। ইনশাআল্লাহ রাজনীতির ময়দানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখি আমি।

প্রতিবেদক: আপনার কি মনে হয় না বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের তুলনায় ডাক্তারদের সংখ্যা অনেক কম। তো সে জায়গা থেকে ডাক্তারি পেশায় থেকেই মানুষের সেবা নিশ্চিত করাটা বেশি জরুরী। এটা কি মনে হয় না?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: জায়গাটা যে জরুরী নয়, সেটা কিন্তু আমি বলছি না। কিন্তু, আমি আগেই বলেছি গণমানুষের সেবা আমি অকপটে করতে চাই। সেটা কল্যাণের মধ্যেই থাকতে হবে। মূলত মানবসেবার ভাবনা থেকেই পেশা হিসেবে আমি ডাক্তারি বেছে নিয়েছিলাম। আর এই পেশা বেছে নেয়ার আগ থেকেই আমি রাজনীতি করতাম। রাজনীতিতে থেকে সে সময় যতটুকু সেবা করতে পারতাম, সেই সেবার পরিধি আরো বাড়ানোর জন্যই আমি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আর এখন ডাক্তারি পেশায় অবস্থান করে নিজেকে সেবার জন্য পূর্ণাঙ্গ তৈরি করতে পেরেছি তাই সেবার পরিধি বৃদ্ধি করতেই রাজনীতির ধারায় আমার পথচলা।

প্রতিবেদক: আপনার রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে যদি কিছু জানাতেন-
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আমি মূলত আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার মামা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি একাত্তর পরবর্তী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। আমার বাবা বর্তমানে শরীয়তপুর কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি পরিবারের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চা ছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে তাঁরা চলতো। তো সেখান থেকেই আমি অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানার আগ্রহ পাই এবং ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধুর জীবন-আদর্শই আমার ভেতরকে নাড়তে শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তান হিসেবে হিসেবেই আমি ছোটবেলায় ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সেই ছোটবেলা থেকে ধারণ করে আজো রাজনীতির ময়দানে পথ চলছি এবং সকলের দোয়া সংগঠন থেকে মূল্যায়িত হয়েছি।

প্রতিবেদক: আমরা জানতে পেরেছি আপনি সদ্য আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একজন সদস্য হয়েছেন। তো এখানে কিভাবে আসা?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আমি আগে ছাত্রলীগ করেছি। ছাত্রলীগ করার পর আসলে সবারই একটা লক্ষ্য থাকে আমি আওয়াামী লীগ করব বা আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ সংগঠন করব। সে প্ল্যাটফর্ম থেকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ হচ্ছে একটা সেবা-শান্তি-প্রগতির একটা সংগঠন। তো আমার কাছে মনে হলো আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাধ্যমে আমি সেবার মূল ধারা নিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারব। সেখান থেকেই আমার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিয়ে কাজ করা শুরু এবং এই করোনাকালীন সময়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে সেবামূলক কাজ করে গেছে। আপনারা দেখবেন, করোনা যখন শুরু হলে প্রথম টেলিহেলথ্ সার্ভিস শুরু করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তো সেই টেলিহেলথ সার্ভিসের মাধ্যমে আমি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে কাজ করে গেছি এবং আমাদের সংগঠন বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রাণ দিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিন্তু সুন্দর একটা প্ল্যাটফর্ম আছে মানুষের সেবা করার জন্য। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাধ্যমেই আমি মানুষের সেবা করার একটা জায়গা তৈরি করে নিতে পারব। তো সেখান থেকেই আমার কাজ করে যাওয়া।

প্রতিবেদক: এখন তো আপনি বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন সদস্য হয়েছে। তো আপনার অনুভূতিটা যদি আমাদের জানাতেন-
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আলহামদুলিল্লাহ। আমার অনুভূতিটা খুবই ভালো। কারণ হচ্ছে, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে, পিতা মুজিবকে বুকে ধারণ করে যেহেতু মানুষ হয়েছি। তো আমার ইচ্ছে আওয়ামী লীগের কোন একটা অঙ্গসংগঠনে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে কাজ করব এবং এখন আমি বর্তমানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমি সামনে ইনশাআল্লাহ আরো ভালোভাবে আওয়ামী লীগের জন্য, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য যেন কাজ করতে পারি এটাই হচ্ছে আমার সব থেকে বড় আশা আরকি।

প্রতিবেদক: রাজনীতির জায়গা থেকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্ল্যাটফর্মে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাব। ভবিষ্যতে কি হবে সেটা তো আসলে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনা। তবে কথা হচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বির্নিমাণে, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার যে ভিশন সেই ভিশনে আমি যাতে কাজ করে যেতে পারি সেটাই হচ্ছে আমার ইচ্ছা।

প্রতিবেদক: আপনি তো সরকারি দল করেন। আপনার কি মনে হয় এদেশের স্বাস্থ্যখাত নানাভাবে বিপর্যস্ত। আর এই জায়গা থেকে স্বাস্থখাতের উত্তোলনটা কিভাবে সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: সত্যি কথা যেটা যে, স্বাস্থ্যখাতের সবকিছু মানে আগাগোড়া থেকে সবকিছু ঠিকঠাক করে আসতে হবে। এখন এই মুহুর্তের কোভিড সিচুয়েশনে আমাদের স্বাস্থ্যখাতে অনেক টানাপোড়েন চলছে। তো সেখান থেকে যদি চিন্তা করতে হয় তাহলে বলব যে, স্বাস্থ্যখাতের তৃণমূল থেকেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার নানাভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশে চিকিৎসা খাতেরও অভাবনীয় সাফল্য রচিত হয়েছে। তবে, টানাপোড়েন কাটাতে আমাদেরকে আরো বেশি উদ্যমী হতে হবে।

প্রতিবেদক: সংগঠন আপনার কাছ থেকে কি পাবে?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আমি তো একজন চিকিৎসক। সংগঠন আমার কাছ থেকে সবসময় যে জিনিসটা পাবে সেটা হচ্ছে ‘আমি’। অর্থাৎ সংগঠন যে কোন সময়, যে কোন প্রয়োজনে আমার কোন ছিন্ন অংশ নয় বরং পুরো আমাকেই সংগঠন পাবে। আর বিশেষ করে, আমি যেহেতু চিকিৎসক। তো সেখান থেকে চিকিৎসা সেবার বিষয়টি অবশ্যই সংগঠন নিশ্চিত হতে পারে।

প্রতিবেদক: সংগঠন থেকে আপনার প্রত্যাশা কি?
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: সংগঠনের জন্য কাজ করব এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি আরো চাই- আমার বর্তমান যিনি প্রেসিডেন্ট আছেন নির্মল রঞ্জন গুহ দাদা এবং আমার রাজনৈতিক অভিভাবক এ.কে.এম আফজালুর রহমান ভাই তাঁদের দিকনির্দেশনা যেন সবসময় আমার প্রতি থাকে এটা আমার প্রত্যাশা।

প্রতিবেদক: আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
ডাঃ মোঃ সালেহীন সাদ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।