স্বামী স্ত্রীর নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

আপডেটঃ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | জুন ২০, ২০২১

মদন,(নেত্রকোনা)সংবাদদাতা: স্বামী স্ত্রী আছেন সুস্থ সবল এর পরেও রয়েছে তাদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। দীর্ঘদিন ধরে তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা। এভাবে সরকারি সহায়তার ভাতা তুলছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে তারু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা বেগম। প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারি টাকা।
এলাকায় প্রভাবশালী থাকায় বিষয়টি জানার পরেও প্রশাসনের নিকট মুখ খুলতে পারছেন না গ্রামের লোকজন। তবে এলাকাবাসী সরকারি টাকা আত্মসাৎ কারীর বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতারণার মামলা করার দাবি জানান।
জানা যায়, তারু মিয়ার প্রতিবন্ধী ভাতার বহি নং ১৫৩ ও তার স্ত্রী সমলা বেগমের বহি নং ১৫৭ নামে প্রতিবন্ধী ভাতা তুলছেন নিয়মিত। সব মিলিয়ে তিন মাস পর পর সাড়ে চার হাজার টাকার ভাতা তুলে নিচ্ছেন স্বামী স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ভাতার বিষয়ে এলাকার কিছু সচেতন মানুষ জানলেও তারা প্রবাশালী থাকায় কেহ মুখ খুলতে পারছেন না।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে শনিবার গ্রামের বাড়িতে গেলে ভাতা ভোগী স্ত্রী সমলা আক্তারকে সুস্থ সবল অবস্থায় বাড়ির সামনে তাদের মুদির দোকানের পাশে দাড়িঁয়ে আছে দেখতে পাওয়া যায়। স্বামী উপজেলার সদরে গেছেন বলে তিনি জানান।
স্বামী স্ত্রীর নামে ভাতার কার্ড আছে কিনা স্ত্রী সমলা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের দুজনের নামে ভাতার কার্ড আছে এবং নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করছেন। তবে তারা প্রতিবন্ধী কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন জানান, তারা অনেক দিন ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে টাকা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। তারা সুস্থ সবল মানুষ। যে কোন কাজ করতে পারে। তবে তাদের ভয়ে কেহ মুখ খুলে বলতে পারে না। জরুরী ভিত্তিতে তাদের নাম তালিকা থেকে বাতিল এবং প্রতারণা করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করার জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আয়নূল হক জানান, আমার গ্রামের তারু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা আক্তার প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়মিত উত্তোলণ করছেন বিষয়টি আমি কয়েক দিন হল জেনেছি। এ নিয়ে এলাকায় কানা ঘুষা হচ্ছে। যারা প্রকৃত প্রতিবন্ধী তারা আজ ভাতা থেকে বঞ্চিত। অতচ তারা সুস্থ সবল মানুষ কাজ করতে পারে তাদের নামে কেন এ ভাতা। এ ব্যাপারে আমি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমি চাই দ্রæত তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল করা হউক এবং প্রতারণা করে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবন্ধী না হয়েও স্বামী স্ত্রীর নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে বিষয়টি আমি আপনাদেও মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি খুবই অন্যায় হয়েছে। তাদেও নাম অচিরেই বাতিল করা হবে।
ভাতা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ জামান আহমেদ জানান, প্রতিবন্ধী না হয়েও যদি স্বামী স্ত্রীর নামে ভাতা থাকে তাদের নাম বাতিল করা হবে এবং প্রতারণা করে ভাতা উত্তোলনের দায়ে আইনী কি ব্যবস্থা নেয়া যায় এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।