মদনে অপরিকল্পিত খাল খননের অভিযোগ হুমকিতে বসত বাড়ি সেতু

আপডেটঃ ৭:২৮ অপরাহ্ণ | মে ২৪, ২০২১

আল মাহবোব আলম ,মদন (নেত্রকোনা) : ৬৪ জেলায় অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প প্রথম পর্যায়ের আওয়াত নেত্রকোণার মদনে খনন হয়েছে আল হেলালী খাল। এই প্রকল্পের শুরুতেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলেছেন, খাল খননের ফাঁকি দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সময় সীমার আগেই তরঘরি করে মাপজোক না করে নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি বসত বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া,ব্যক্তিগত জমি কেটে পুকুর ভরাট, নিদিষ্ট পরিমাণে খাল না কেটে পানি ছেড়ে দেওয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পরও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগর দায়ের করে ছিলেন।
ময়মনসিংহের তাজওয়ার ট্রেড সিস্টেম লিমিটেড-এম রহমান (জেভি) এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠান এ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। কাজের বরাদ্দ ৩ কোটি ২ লাখ ১৮ হাজার ৩১৯ টাকা। ৫ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য, ১০ মিটার প্রস্থ, স্থানভেদে গভীরতা শূন্য থেকে ১ মিটার বা তারও কম এবং ওপরের দিকে গড়ে ১৮-২০ মিটার অ ল খনন করার কথা রয়েছে কিন্তু পাড় ঢালু করার বদলে খাল খনন করেছে অপরিকল্পিত ভাবে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধ্বসে পড়ছে মাটি। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে খালের পাড়ের অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায়ের বাড়িঘরসহ,সেতু ,মসজিদ,মন্দির ও মদনÑফতেপুর সড়ক। এদিকে খাল খনন করতে গিয়ে পাহাড়পুর গ্রামের ৪টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসত বাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে ঠিকাদারের লোকজন। বর্তমানে তারা বাড়ির পাশে মাঠে ও অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে।
তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধামাচাপা দিয়ে কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করছে।
শুরুতেই খননের মাটি উত্তোলন করে দূরে না সরিয়ে পাড়েই রেখে দেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে আবারো খাল ভরাট হচ্ছে। বারবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে গ্রামের মধ্যস্থল পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা খনন না করে পাড়ে কিছু মাটি ফেলে তরিঘরি করে বাঁধ কেটে খালের ভেতরে নদীর পানি ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

পাহাড়পুর গ্রামের খাল খননে ক্ষতিগ্রস্ত জুটন বর্মন,অরলাল বর্মন,পৃথিশ বর্মন অভিযোগ করে বলেন, খাল খননের সময় মাপযোগ করেনি,আমরা বলেছি যতটুকু খাল আছে মাপেন কে শুনে কার কথা না মেপে নিজেদের ইচ্ছে মতো খনন করায় ৪টি বসত বাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে। আরো ৩০/৩৫টি বতস বাড়ি হুমকির মধ্যে আছে। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির মাটি খনন করে পুকুর ভরাট করেছে। মদন-ফতেপুর রাস্তা ও ব্রিজটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছিলাম কোন কাজ হয়নি। খননের মাটি উত্তোলন করে দূরে না সরিয়ে পাড়েই রেখে দেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে আবারো খাল ভরাট হচ্ছে। এভাবে খাল খনন করায় জনগণের কোন উপকারে আসবে না।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সরজমিনে পাহারপুর গ্রামে গেলে খননে বসতরত বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়া পরিবার গুলো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা জানায় নিজেদের ইচ্ছে মতো খনন করায় আমাদের বাপ দাদার ভিটা বাড়ি ছেড়ে মাঠে ও অন্যের বাড়িতে বসবাস করতে হচ্ছে। আমাদের কোন জমিও নেই যে বাড়ি তৈরি করে থাকব। পরিবার পরিজন নিয়ে ২মাস যাবত মাঠে বসবাস করতেছি।
আমাদের বাড়ি দেউক না হয় আমাদের আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

ময়মনসিংহের তাজওয়ার ট্রেড সিস্টেম লিমিটেড-এম রহমান (জেভি) এন্টারপ্রাইজ মিজানুর রহমান তাপস মোবাইল ফোনে জানান,পাহাড়পুর এলাকায় অনেক পরিবার খাল দখল করে ঘর বেধেঁ রেখে ছিল। এ নিয়ে এলাকায় অনেক বৈঠকও হয়েছে। মদন উপজেলার ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়ে ছিল। পরে তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ঘর সড়িয়েছে। অভিযোগ অনেক কিছুই থাকতে পারে। খালে পানি ছাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার লোকজন নিজেরা মাছ ধরার জন্যই পানি ছেড়ে দিয়েছে। যে লোক পানি ছেড়ে দিয়েছে সে লোক আমাকে না জানিয়েই পানি ছেড়েছে।

খাল খনন নিয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বুলবুল আহমেদ জানান,খাল খনন নিয়ে পাহাড়পুর গ্রামের লোকজন অভিযোগ দায়ের করেছিল। সেখানে আমি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব এলাকায় গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি।

নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, মাটি না কেটে,কম মাটি কেটে ঠিকাদার বিল নেওয়ার কোন সুযোগ সুবিধা নেই। মাটি কাটার আগে ও মাটি কাটার শেষে আমাদের নিকট ভিডিও আছে। ঠিকাদারকে এখনো কোন বিল দেওয়া হয়নি। খাল না কেটে নিজের জমি কেটে ব্যাক্তির পুকুর ভরাট করেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাল খনন হয়েছে প্রায় দেড় মাস হয়েছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ থাকলে মদন উপজেলার ইউএনও সাহেবকে জানালেওতো তিনি সমাধান করে দিতে পারতেন।

 

 

সি এন এ নিউজ/জামান