কেন্দুয়ায় নদীর নাম পাল্টে খাল বানিয়ে প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটঃ ১:২৮ অপরাহ্ণ | মে ১৭, ২০২১

মহিউদ্দিন সরকার, নেত্রকোনা থেকে :  এক বুক দুঃখ নিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নিয়েছিল দুঃখ বিলাসী নদী যে কারনে নদীর নামই হয়েছিল বেতাই নদী। বেতাই নদী নাম করন থেকেই বুঝা যায় কতটা দুঃখ লুখিয়ে রেখেছে জলের উদরে, নদীর ও যে আশা থাকে, ইচ্ছে থাকে, আছে স্বাদ আহলাদ , নদীটি হয়তো ইচ্ছে করছিল একদিন নদীটি খনন হলে নদীটি জীবন্ত হয়ে চির যৌবননা হয়ে ওঠবে নদী ফিরে পাবে তার নাব্যতা আসবে ফিরে খরস্রোতা। ভরা মৌসুমে মাঝিরা পাল তুলে ভাটিয়ালী গান ধরবে,

“পূবালী বাতাসে তুমি ভাইটালী গান গাইয়া, কোন দেশে যাও রঙিন পাল উড়াইয়া”

বেতাই নদীর সেই আশা পূরন হলো না। তা না হলে নদী খাল হবে কেন?যে নদীর ইতিহাস ঐতিহ্যকে কেন্দুয়ার মানুষ আজ ও বুকে ধারন ও লালন করে আসছে।
যে বেতাই নদীকে ঘিরে কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোয়াইল বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস, এম ইকবাল রুমী রচনা করছিল মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক “বেতাই নদীর তীরে” যে নাটকটি কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে মঞ্চস্থ হয়েছিল। মুক্তি যুদ্ধের এই বীরত্ব গাথাঁ নাটক টি উপভোগ করেছিল কেন্দুয়ার হাজারো নাট্যমোদী দর্শকশ্রোতা।

সেই নাটককে আমার ও অভিনয় করার সুযোগ হয়েছিল, শুধু আমি না আরো অনেক নাট্য শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন।
আজ ইতিহাস বিকৃতিকারী নদীর নাম পাল্টে ইতিহাস ঐতিহ্যকে নষ্টকরে খাল বানানোর পায়তারায় লিপ্ত।

বেতাই নদী সান্দিকোনা ও রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য অববাহিকায় অবস্থিত। কিন্তু কাগজ পত্রে বেতাই নদী, প্রকল্প অনুমোদন বেতাই খাল। খনন কাজেও অনিয়ম।

শনিবার ১৫ মে সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উদ্বোধনী নাম ফলকে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলাধীন ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন (২য় পর্যায়) এর আওতায় বেতাই খাল পাবসস লিঃ বাস্তবায়নে এলজিইডি, নেত্রকোনা লেখা রয়েছে।

এ প্রকল্পে লেখা রয়েছে খাল, অথচ সান্দিকোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব পিয়াস আহমেদ জানান, ১ নং বি আর এস খাস খতিয়ানে মোট ১২ একর ১৭ শতাংশ জমিতে শ্রেণী নদী উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে বালুচর মৌজার জে, এল, নং ১১৯, দাগ নং ৫৭৭-এ ৮ একর ৩০ শতাংশ এবং পেরী সাহিতপুর মৌজায় ৩ একর ৮৭ শতাংশ। পেরী সাহিতপুর মৌজার জে, এল, নং ১১৪, দাগ নং ৩৪৬ এ ১ একর ২ শতাংশ ও ১৪৭ দাগে ২ একর ৮৫ শতাংশ । উভয় জে এল নং এর দাগ অনুযায়ী শ্রেণী নদী উল্লেখ রয়েছে এবং মালিক হিসেবে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পক্ষে জেলা প্রশাসক নেত্রকোনা উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জনগণ জানায় এ নদীটি আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক বাহক। কেন্দুয়ার প্রধান নদ নদীর মধ্যে বেতাই নদী অন্যতম। প্রকল্পে কিভাবে খাল হল তা আমাদের বোধগম্য নয়। বাজেট অনুযায়ী কাজেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। প্রকৃত নাম বেতাই নদী এর নাম পাল্টিয়ে খাল বানিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করার পায়তারা চালাছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু সমাধান চাই।

জনগণ আরো বলছেন-নতুন প্রজন্ম আগামীদিনে বেতাই নদীকে খাল হিসেবে চিনবে। এ ইতিহাসকে বিলুপ্ত করা যাবে না। এছাড়াও স্থানীয় জনগণ জানায়, প্রকল্পের বাজেট অনুযায়ী কাজের মান প্রশ্নবিদ্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈনউদ্দিন খন্দকার বলেন-বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: জাকির হাসান’কে বলেছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া এলজিইডি কর্মকর্তা জাকির হাসান জানান, প্রায় ১১ কিলোমিটার প্রকল্প ১৪ টি স্কীমে বিভক্ত এবং ২ কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ। তিনি বলেন, লোকমুখে শুনেছি বেতাই খাল, কাগজপত্রে বেতাই নদী লেখা তা আমার জানা নেই। কাজ অনিয়মের বিষয়টি ঈদের ছুটি শেষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ টিম এসে তদন্ত করবেন।

এ বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে প্রকল্পের সভাপতি মো: ইসলাম উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত স্বরে বলেন-খাল বা নদী আমি তো পকেটে ভরে নিয়ে যাইনি তা জায়গাতেই আছে। নদী কেন খাল হল তা জানতে চাইলে তিনি বলেন-
এব্যাপারে আমি কিছু জানি না তা সরকার জানে ও যাহারা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে তাহারা জানে।

 

 

 

সি এন এ নিউজ/ জামান