সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে বি,এম,এস ইটভাটায়

আপডেটঃ ৮:২৪ অপরাহ্ণ | মে ০৫, ২০২১

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। ফসলি জমির মাটি দিয়ে ইট তৈরি সরকারে নিষেদ্ধ থাকলেও ভাটার মালিকরা এর কোন তোয়াক্কাই করছে না। আর এ কারণেই সাবাড় হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। উর্বরতা শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে ধস নামার আশস্কা রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাটি খেকো ‘মুনাফালোভীদের কাজে লাগিয়ে ভাটা মালিকানা ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ভঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লোক জনের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। মাটি বিক্রি করেছেন এমন চার-পাঁচ জন কৃষক জানান, ইট ভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য এক শ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায় এবং স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের এসব মাটি কেটে কিনে নেয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনেই সহজ-সরল কৃষকেরা নগদ লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করেন। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে মাসকান্দা গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, উপজেলার মাসকান্দা গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, আমার জমির পাশের জমির মালিক ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন। তাকে আমরা মাটি বিক্রি না করতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি অনুরোধ রাখেননি। এভাবে মাটি বিক্রি করলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে এটাও তাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ নগদ টাকার লোভে আমাদের কৃষির ক্ষতি করছেন। পতিত বা চাষ হয় না এমন জমির মাটি নিচু জায়গা ভরাট, রাস্তা উঁচু বা নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য কেটে নেওয়া হতো। আবার অনেকে পুকুর কাটার মাটি দিয়ে এসব কাজ করতেন। এখন ইটের ভাটায় মাটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফসলি জমির মাটি বেচা-কেনা হচ্ছে দেদারছে। আসলে তারা এসব ক্ষতির বিষয়টি জানেন না বলেই মাটি বিক্রি করছেন। উপজেলার সুনই গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, আমার জমির পাশের জমির মালিক ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন। তাকে আমরা মাটি বিক্রি না করতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি রাখেননি। এভাবে মাটি বিক্রি করলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে এটাও তাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ নগদ টাকার লোভে আমাদের কৃষির ক্ষতি করছেন। সুনই গ্রামের বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, আমি এক বিঘা জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছি। ভাটার লোকজন এসে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে আমার খেতের উপরিভাগ থেকে তিন ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মাসকান্দা গ্রামের মাটি বিক্রেতা রানু সরকার ও সুনিল সরকার বলেন, তাদের এক একর জমির উপরিভাগ থেকে তিন ফুট করে মাটি মেসার্স বি, এম,এস ইটভাটায় বিক্রি করেছেন। মেসার্স বি, এম,এস ইট ভাটার ম্যানেজার শ্যামল সরকার বলেন, ইটভাটায় প্রতিদিন ২৫-৩০ ট্রলি মাটির প্রয়োজন হয়। আমরা ওদের কাছ থেকে মাটি কিনে ব্যবসা করি। কৃষকরা না বিক্রি করলে আমরা নিতে পারতাম না মেসার্স বি, এম,এস ইট ভাটার মালিক বিপ্লব রায় বলেন, আপনি তাদের সাথে গিয়ে কথা বলেন বলে তিনি মোবাইল ফোনটি কেটে দেন। পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি বিক্রির বিষয়টি এখন চরম উদ্বেগের পর্যায়ে চলে গেছে। অচিরেই এটা রোধ করা দরকার। না হলে এই উপজেলায় ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ধস নামবে। এ জন্য কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারেন। এ জন্য যদি তারা (কৃষি বিভাগ) আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, তবে আমরা সেটা দেব। এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, জমির উর্বরতা শক্তি উপরিভাগ থেকে ১৫-২০ ইি র মধ্যে থাকে। তাই ওপর থেকে মাটি সরিয়ে ফেলায় উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সেই জমির ওপর বিভিন্ন পদার্থ জমে উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে শুরু করে। এভাবে আগের মতো উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। মাটি বিক্রি করে সাময়িক অভাব দূর হলেও ক্ষতি হয় অনেক বেশি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। অভিযোগ পেয়েছি এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিয়মনীতি না মেনে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি এবং জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা আইনত অপরাধ। এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ইউএনও সাবকে নির্দেশ দিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

 

 

সিএন এ নিউজ/ জামান