করোনার মধ্যেও সরকার জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে: ফখরুল

আপডেটঃ ৩:৫২ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৫, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, করোনাভাইরাসের এই মহাদুর্যোগের মধ্যেও বাগাড়ম্বর বক্তব্য প্রদান ছাড়া সরকার জনকল্যাণে কোনো কাজ করছে না। বরং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর বেপরোয়া গতিতে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তার নিজ বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘করোনার ভয়াবহতা মোকাবিলায় সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী সরকার আরও বেশি আগ্রাসী নাৎসিবাদী পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারের এই ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুর আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে গিয়েও বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরকারের সাঁড়াশি আক্রমণে পড়তে হয়েছে। ২০২১ সালের শুরু থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারের জোরালো হিড়িক শুরু হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় আক্রমণে বাংলাদেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের কাছে মানুষের অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণে মৃত্যুভয় সবাইকে জড়োসড়ো করে ফেলেছে। প্রতিদিন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। দ্বিতীয় ধাপের করোনা সংক্রমণে গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুর তালিকা লম্বা হয়েই যাচ্ছে। গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু সংবাদে আঁতকে উঠেছে দেশের মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসকে যদি এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীকে গত ২৮ মার্চ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার কারাবাস অন্যায়ভাবে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, নওগাঁ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম, রানীনগর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ হোসেন, মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপি’র ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক কাইয়ুম মিয়া, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য হেলাল আহমেদ, হালিম ফকির, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এফ আই ফারুক, মহানগর বিএনপি নেতা ওয়াসিম আকরামসহ সারা দেশে বিএনপির ৪৭ জন নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ রাখতে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা মহানগর বিএনপি নেতা বাবুল কাজী পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে গত ১১ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। গত ২৯ মার্চ খুলনায় বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি পুলিশের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে দেড় মাস আগে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত পরশু মজনুর জামিন হয়, গতকাল জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সকল মামলায় জামিনে থাকা সত্বেও কারাফটক থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।’

ফখরুলের দাবি, গত ২৬ মার্চ ২০২১ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১৭৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বা তাদের কোনো কর্মসূচির সাথে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজত সংশ্লিষ্ট মামলাতেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমি অবিলম্বে নিপুণ রায় চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন এবং রফিকুল আলম মজনুসহ দেশব্যাপী গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি।’