নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো মানুষের পুণ্যস্নান

আপডেটঃ ৭:১৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৯, ২০২১

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বৈশ্বিক মহামারি করোনা বিস্তার রোধে সারাদেশের মতো গণজমায়েত নিষেধ করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এ জন্য গতবারের মতো এবারও পণতীর্থ গঙ্গাস্নান ও শাহ্ আরফিনের ওরস অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পণতীর্থ গঙ্গাস্নান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতেই সাধক ও পণতীর্থ গঙ্গাস্নানের প্রবর্তক শ্রী অদ্বৈত আচার্য্যের জন্মস্থান যাদুকাটা নদীতীরের নবগ্রামে গিয়ে পৌঁছেন। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ভোর থেকেই হাজারো পুণ্যার্থী স্নান সম্পন্ন করেন।
দেখা গেছে, তাহিরপুরের পণতীর্থ গঙ্গাস্নানে যাওয়ার সড়কের প্রবেশদার আব্দুজ জহুর সেতুতে উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবার সকালে স্নান সেরে ফেরা হাজারো মানুষের মাঝে নেই করোনার স্বাস্থ্য সচেতনতা। শারীরিক দূরত্ব থেকে শুরু করে মাস্ক পরা- এসবের বালাই নেই তাদের মাঝে। তারা বলছেন, আজ সকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত স্নানের সময় ছিল। তাই তারা নির্ধারিত সময়ে স্নান সেরে বাড়ি ফিরছেন।
জানা যায়, কয়েক শ বছর ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদীতে গঙ্গারূপী তীর্থ মনে করে মনোবাসনা পূরণের জন্য স্নান উৎসবের শুরু হয়। একই সময়ে পাশের মুসলিম সম্প্রদায়ের সাধক শাহ আরেফিনের মাজারেও ওরস চলে। এ দুটি উৎসব শত বছর ধরে হিন্দু মুসলমানের মিলনোৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। উৎসবে পুণ্যের আশায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়।
এদিকে গেল ৩১ মার্চ রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পণতীর্থ গঙ্গাস্নান ও শাহ্ আরফিনের ওরস অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
সভায় জানানো হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা সবাইকে পালন করতে হবে। দোকানপাট, গণপরিবহন ও জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার কথা জানায় জেলা প্রশাসন। সভায় উপস্থিত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (বিপিএম) পণতীর্থ গঙ্গাস্নান ও শাহ্ আরফিনের ওরস বন্ধ করতে কড়াকড়ি হওয়ার কথা জানান। তবে প্রশাসনের এত কড়াকড়ির পরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে পণতীর্থ গঙ্গাস্নান।
দিরাই রাজনগরের বাসিন্দা অদৈত সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। রাতে গিয়ে পৌঁছে আজ সকালে স্নান করেছি। এখন ভালো লাগছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্নান করেছে বলে জানান তিনি।
সিলেটের নবীনগর থেকে স্নান করতে এসেছেন রিপন দত্ত। তিনি জানান, পুলিশ রাতে যাদুকাটা নদীতীরের গিয়ে আমাদের চলে যেতে বলেছে। কিন্তু বৃষ্টির মাঝে এত রাতে কীভাবে যাব। তাই কেউ যেতে পারেনি। সকালে নদীতে স্নান করে এখন বাড়ি ফিরছি।
একই কথা বললেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলসের বাসিন্দা সুবরি রায়। তিনি জানান, এবার স্নানের সময় বেশি ছিল না। মাত্র দেড় ঘণ্টায় সবাই নদীতে স্নান করেছে। তাই কিছুটা ভিড় হয়েছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার মানুষ কম হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ সরদার বলেন, গতকাল থেকেই পুলিশ পুণ্যার্থীদের নিষেধ করছে। তাদের গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে তারা পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেছেন। তবে আমরা কঠোর হওয়ায় এখন তাদের উপস্থিতি কমেছে।