গুণের সীমা নেই মিষ্টি আলুর

আপডেটঃ ১২:০৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৮, ২০২১

সি এন এ  নিউজ,ডেস্ক : মিষ্টি আলুকে বলা হয় ‘সুপার ফুড’। অসংখ্য পুষ্টিগুণের কারণে এটিকে এই নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, আমেরিকা, আফ্রিকাসহ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে মিষ্টি আলু ভালো জন্মে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ফাইবার।

ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর মতে, একটি মিষ্টি আলুতে ১০০ এর বেশি ভিটামিন এ রয়েছে, যা প্রতিদিনের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে। হাত-পায়ের আঙুল ফোলা কমানো, প্রসাবের সমস্যা দূর করাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য মিষ্টি আলুর পাতা ও মূল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

পুষ্টিগুণ

লাল মিষ্টি আলুর রাঙা আবরণে যে পরিমাণ পুষ্টি উপকরণ থাকে, তা সাদা মিষ্টি আলুর তুলনায় অনেক বেশি। একটি আলুতে আছে ১০০ ক্যালোরি, ২ গ্রাম প্রোটিন, ২২ গ্রাম শ্বেতসার, ৩ গ্রাম আঁশ, ০ গ্রাম চর্বি। এছাড়া একটিটি মিষ্টি আলু থেকে প্রতিদিনের চাহিদা ২৬০ ভাগ ভিটামিন এ, ১২.৬ ভাগ ভিটামিন বি৬ ও ২৮ ভাগ ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

মিষ্টি আলু ভিটামিন সি ও ডি-এর সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন সি ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ও ভিটামিন ডি স্বাস্থ্যকর হাড়, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ু, ত্বক ও দাঁতের জন্য জরুরি। ভিটামিন সি দাঁত, হাড় এবং কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষত সারাতে, শরীরে কোলাজন উৎপাদন করে ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে ভিটামিন সি এর প্রয়োজন হয়।

আয়রনের উৎস

মিষ্টি আলু আয়রনেরও ভালো উৎস। এটি আমাদের শরীরে শ্বেতকণিকা তৈরি, চাপ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর রাখাসহ নানা কাজে আসে।

অন্যান্য খনিজ উপাদান

মিষ্টি আলুতে ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়ামও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ধমনী, রক্ত, হাড় ও মাংসপেশির সুস্থতায় ও স্নায়ুর সুষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে

মিষ্টি আলু প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি হয়, যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাকৃতিক চিনি কাজের শক্তি প্রদান করে অবসাদ, ক্লান্তি দূর করে থাকে। মিষ্টি আলুতে প্রাকৃতিকভাবে চিনি থাকলেও তা খুব ধীরে ধীরে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এতে শরীর শুধু শক্তির নিয়মিত জোগানই পায় না, শরীরে শক্তির ভারসাম্যও বজায় থাকে।

এটি শর্করা হলেও বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মিষ্টি আলু রক্তের সুগার মান সুস্থিতিতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে বেশ উপযোগী। মিষ্টি আলুতে বেশ আঁশ আছে। এর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স বেশ নিচুতে (৫০)। তবে এতে আরো কিছু উপাদান আছে, যা রক্তের সুগার কমাতে উপযোগী। যাদের ডায়েবেটিস তাদের শরীরে এডিপোনেক্টিন হরমোন নিচু এবং মিষ্টি আলুর নির্যাস টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে এডিপোনেকটিন মান তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়ায়।

পেটের রোগে

ইরিটিবেল বাউয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের মত পেটের রোগেও মিষ্টি আলু উপকারী। মিষ্টি আলুতে আরও রয়েছে প্রদাহরোধী গুণ। এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আছে, সেগুলো প্রদাহসূচকগুলো হ্রাসে সহযোগী

হৃদরোগে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে

মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর একটি ভালো উৎস। এটি আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল কমাতে সহায়তা করে। এই কেমিক্যাল হৃদরোগসহ নানা ধরনের অসুখের অন্যতম কারণ। পটাশিয়াম হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে, কিডনি সুরক্ষায় ও একে কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখে।

হাভার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেল্থ-এর এক গবেষণায় দেকা গেছে, মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি৬ রয়েছে, যা রক্তের হমোসাইটিনিন ভেঙ্গে দিয়ে রক্তের ধমনী এবং শিরায় রক্ত চলাচল সচল রাখে। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রেখে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ইলেক্ট্রোলাইট হার্টবিট নিয়মিত রাখে।

রাতকানা রোগ সারায়

রাতকানা রোগের ক্ষেত্রেও মিষ্টি আলুর উপকারিতা লক্ষ্য করা যায়। সে ক্ষেত্রে রোগীকে খাসীর কলিজার সঙ্গে মিষ্টি আলু খাওয়াতে হবে ।এছাড়াও বৃক্কের কার্যক্ষমতায় ঘাটতি বা কাঙ্ক্ষিত সময়ের আগেই বীর্যস্খলন-এর সমস্যায় এই উদ্ভিদ কাজে লাগে। মিষ্টি আলুতে যে সব ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে এগুলো ভারি ধাতু ও মুক্ত মূলকের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস করার ব্যাপারে বেশ সহায়ক।

ক্যান্সার প্রতিরোধক

দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল বিটা-ক্যারটিন। একটি মাঝারি আকৃতির মিষ্টি আলুতে ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারটিন রয়েছে। ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। স্কুল অব পাবলিক হেল্থস ডিপার্টমেন্ট অব নিউট্রিশন-এর গবেষণা বলছে, বিটা ক্যারটিন প্রোসটেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

দুশ্চিন্তা নিরাময়ক

ম্যাগনেসিয়াম স্বাস্থ্যকর রক্ত, হাড়, হার্ট, পেশী এবং নার্ভ গঠন করতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা দূর করে মন চিন্তা মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ন্যাশনাল হেল্থ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সারভে এক জরিপে প্রকাশ করেছে যে, ২ ভাগ আমেরিকান প্রতিদিন ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম সাপ্লিমেনটরি গ্রহণ করে। অথচ একটি মাঝারি আকৃতির মিষ্টি আলুতে রয়েছে ৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। মেডিকেল নিউজ ডেইলির মতে, প্রতিদিন পটাশিয়াম গ্রহণ প্রায় ২০ ভাগ বিভিন্ন রোগে মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে।

খাওয়ার পদ্ধতি

তাজা মিষ্টি আলু খুব ভালো। ঝলসানো বা সেঁকা আলুর সঙ্গে দধি (টক দধি) খুব ভালো খাবার। সুপ ও স্টু বানাতেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। সিদ্ধ করেও এটি খাওয়া যায়। মিষ্টি আলুর থেকে খুব ভালো সুস্বাদু মিষ্টি তৈরি হয়। মিষ্টি আলুর গোলাপ জাম মিষ্টি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেশ জনপ্রিয়।