ভাঙ্গায় দুই ইউনিয়ন বাসীর মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেটঃ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৭, ২০২১

ভাঙ্গা(ফরিদপুর) সংবাদদাতা : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় শালিষে বসা নিয়ে আজিমনগর ও কালামৃধা ইউনিয়নের মাঝে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ সময় কয়েকটি ঘরবাড়ী ও শিমুল বাজারের দোকানপাট ভাংচুর চালিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। গুরুতর আহত তিন জনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষের মামলা হয়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,গত একসপ্তাহ আগে আজিমনগর ইউপির পাতরাইল গ্রামের জসিম মাস্টারের ছেলে আজিজুলের মোটরসাইকেলের সাথে কালামৃধা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের মনার ছেলের অটোবাইকে ধাক্কা লাগে। সেই জেরে মিয়া পাড়ার  সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক গ্রæপের লোকেরা জসিম মাস্টার কে মারধর করে।  মারধরের ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় আজিমনগর শিমুলবাজার ইউপি ভবনের সামনে পার্শ্ববর্তী দুই জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে শালিষ বৈঠক বসেন। আজিমনগর স্থানীয় চেয়ারম্যান মোতালেব মাতুব্বর তিনি তার চেয়ারে এক পক্ষের দল নেতা নুরুলহক চেয়াম্যানকে বসালে অন্য পক্ষ (জসিম মাস্টার)গ্রæপরা শালিষ বর্জন করেন। তখন উভয় গ্রæপ সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ঢাল,শরকি,টেটা ও ইট পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রায় তিন ঘন্টা সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ  ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে উভয় গ্রæপের অন্ততঃ ৩০ ব্যাক্তি আহত হয়। এবং বাজারের সভাপতি আলমগীর হোসেনের বাড়ী ও শিমুল বাজারের প্রায় দশ থেকে বারোটি দোকান ভাংচুর চালায়। তখন উভয় গ্রæপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় চতলারপাড় মাঠের পাকা ধান ও সদ্য বুনানো পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এবিষয়ে এক পক্ষের দল নেতা নুরুলহক বলেন, জসিম মাস্টারের লোকজন আমার গ্রামের লোকজনকে প্রায়ই মারধর করে। আমার এলাকার লোকের ১৫টি দোকান ও বাজারের সভাপতির বাড়িতে হামলা চালায় এবং লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে, গরু ছাগল পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
এদেকে অন্য পক্ষের দল নেতা জসিম মাস্টারের ভাই ইলিয়াছ খাঁন বলেন, আমার ভাতিজার সাথে অটোবাইকের সাথে ধাক্কা লাগলে আমার ভাই শালিষ মেনেছে তারপরেও নুরুলহক চেয়ারম্যান থেকে আমার ভাইকে বেদম  মারধর করেছে।সে এখন কোন মতেকেচে আছে। এর পরেও আমরা শালিষ মেনেছি কিন্তু বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোতালেব মাতুব্বর তিনি শালিষের সভাপতি, সেই সভাপতির চেয়ারে মারামারির মূল নেতাকে বসিয়ে পক্ষপাত করেছে বিধায় আমাদের লোকজন উঠে এসেছে। তখন নুরুলহক গ্রæপ আমাদের উপর হামলা চালিয়ে ১০ থেকে ১২ জনকে আহত করেছে।
এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত বিকাশ মন্ডল বলেন, দুই ইউপির মাঝে কয়েকদিন আগের ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষ হয়। এখনও কোন পক্ষ থানায় আসেনি অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে। এলাকায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।