জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ: ফখরুল

আপডেটঃ ১০:০০ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০২, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সমসময়ই ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরকার জড়িত থাকা কারণেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত যে সামনে রমজান আসছে। ইতিমধ্যে চাল-ডাল-লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সেগুলোর দাম যেভাবে বেড়ে গেছে- এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সবসময় ব্যর্থ হয়েছে।’

‘কারণ যারা দাম বাড়ায় সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরকার জড়িত। সরকারের লোকেরাই এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। যার ফলেই এই অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে এই অর্থনীতি এখন একটা দুর্নীতিবাজদের অর্থনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, লুটেরাদের অর্থনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’-যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যেটা আমরা বলে আসছি, বর্তমানে যে আওয়ামী লীগ সরকার এরা তো জনগণের পক্ষের সরকার নয়, তারা জনগণের বিরুদ্ধের সরকার। আগেও বলেছি, বর্গীরা যেমন আগে বাংলাদেশে আসতো, লুট করতো আর চলে যেতো। এরাও ঠিক একইভাবে লুট করছে এবং বিদেশে তাদের বিত্ত তৈরি করছে এবং সেখানে দেশের সম্পদ পাচার করে দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ভার্চুয়ালি এই সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব।

ফের মামলা সরকারের চক্রান্তের অংশ

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের-গ্রেপ্তারের ঘটনা এটা হচ্ছে যে, সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগের যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্তেরই একটা অংশ। অর্থাৎ এগুলো কিন্তু এখন যারা রাজনৈতিক বিশ্লেষক আছেন তারা মনে করছেন যে, এটা এটা সরকারেরই সাজানো তৈরি।’

‘এর মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, বিএনপিকে আবার মামলা-মোকাদ্দমার জালে জড়ানো। তারা যেভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম করছিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিচালনায় তারা যেভাবে সংগঠিত হচ্ছিল। আমরা অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম, আন্দোলন শুরু করেছিলাম সেগুলোকে কী করে আবার একেবারে বন্ধ করে দেয়া যায়, নিশ্চিহ্ন করার যায় সেটারই একটা অংশ।–যোগ করেন ফখরুল।

২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে মহান স্বাধীনতা দিবসের দিনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে এবং সমাবেশে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় প্রায় সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরের দুই দিনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচিতে বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস সেল, গুলি করে মোট ২০ জনকে হত্যা করে জাতির জীবনে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। প্রমাণিত হয়েছে যে এই অনির্বাচিত সরকার তাদের বেআইনি ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের সকল মূল্যবোধকে ধ্বংস করে, একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হীন চক্রান্ত করছে।’

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই সরকার আবারও মিথ্যা প্রচারণা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। বলেন, গত কয়েক দিনে সরকারি বাহিনী ও পুলিশ কর্তৃক হত্যা, আওয়ামী এজেন্টদের দ্বারা ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা এবং সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য অডিও নাটক সাজিয়ে আমাদের নারী নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার, রিমান্ড নেওয়া ও সারা দেশে পুনরায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করার হীন পরিকল্পনা করছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দেখলেই এটা স্পষ্ট হবে যে, মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিরোধী দলকে পুনরায় মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকে গণতন্ত্র উদ্ধার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে ব্যাহত করা, দমন করা।’

গত কয়েকদিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় ৮টি মামলায় কয়েক হাজার আসামি। চট্টগ্রামের হাটাজারিতে কোনো মামলা করা হয়নি। অথচ বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশের হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক ডা. শাহাদাতসহ প্রায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ১৫ জন…। ইতিমধ্যে শাহাদাতসহ প্রায় ১৫ জনকে রিমান্ড নেওয়া হয়েছে।’

‘হবিগঞ্জে একটি মামলায় ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি এবং বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র জনাব গউসের ছেলে ব্যারিস্টার মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রীতমসহ অনেক গ্রেপ্তার, নারায়ণগঞ্জে ৭টি মামলায় ৩৯০০ আসামি। যার মধ্যে সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুনসহ ১৬৬ জন বিএনপির। বাকিরা অজ্ঞতনামা আসামি। কিশোরগঞ্জে ২টি মামলা ৬৪জন বিএনপির, ২২৫০ জন অজ্ঞাতনামা।’

সংবাদ সম্মেলনে নিপুণ রায় চৌধুরীর কথোপকথনে প্রচারিত অডিওটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী একজন কর্মরত আইনজীবী, একজন সক্রিয় মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন রাজনীতিক। কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এটা সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্রমূলক, সাজানো তৈরি করা এবং তাকে মিথ্যা দোষারোপ করার একটি জঘন্য চক্রান্ত।’

করোনার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকার ব্যর্থ

সংবাদ সম্মেলনে করোনার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে যে সচেতনতা সৃষ্টি করার প্রয়োজন ছিলো জনগণের মধ্যে, সেই সচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন, নিজেরা মাস্ক পড়েছেন, ফেস-শিল্ড পড়েছেন, ঘর থেকে বেরুননি।