ঢাবির দুই সাংবাদিকের উপর হামলায় ডুজার নিন্দা ও প্রতিবাদ

আপডেটঃ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৬, ২০২১

ঢাবি সংবাদদাতা : ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের সময় গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)’র ‘প্রথম আলো’ ও ‘বাংলা ট্রিবিউন’র রিপোর্টার আসিফ হাওলাদার ও আবিদ হাসান রাসেলের উপর হামালার নিন্দা ও প্রতিবাদ  জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল সোহেলের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবির নিন্দা জানান।
একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরম্নদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি না ভেবে ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে নানা ধরণের অসঙ্গতি তুলে ধরেন। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের লেখনিকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা চালানো হচ্ছে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও জানান, আমরা জানি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ফুলার রোডস্থ শিক্ষক কোয়ার্টারে পাকিস্তানি বাহিনী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর নৃশংসভাবে নির্যাতন চালায়। একইভাবে ওই কালো অধ্যায়ের ঠিক পঞ্চাশ বছর পরে এসে ২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সেই শিক্ষক কোয়ার্টারের ভেতরেই সাংবাদিকদেরকে বর্বরোচিতভাবে মারধর করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, হামলায় সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী, বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আবাসিক ভবনের ভেতরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান পিকুল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিলন হোসেনসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম রিয়াদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তানসেন শেখ, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তামিম, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক কাজী তানভীর আহমেদ অংশ নেয়।
এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি মনে করে, এই  ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতায় চরম কুঠারাঘাতের সামিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
অন্যথায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সংগঠনকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।