শ্রদ্ধার মিনারে ঢল নেমেছে মানুষের

আপডেটঃ ১২:১২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন রাজধানীবাসী। একুশের প্রথম প্রহর থেকে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সববয়সী মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন ভাষা শহীদদের।

প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভাষা শহীদদের। পরে তা সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খুলে দেয়া হয়।

প্রথম প্রহর থেকেই হাজারো মানুষ করোনাভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। ব্যানার, ফুল ও পুষ্পমাল্যসহ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নানান উপকরণ হাতে নিয়ে দীর্ঘলাইনে অপেক্ষা করেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তারা।

কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তারা।

রাতের মতো সকাল ১০টার দিকেও শহীদ মিনারে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল নিয়ে হাজির হয়েছেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুকুল মুর্শেদ  বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার। এই ভাষার স্বীকৃতির জন্য অনেকেই বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। প্রাণ দিয়েছেন অনেকে। ভাষার জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই শহীদ মিনারে এসেছি।

মিরপুর থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন রেজাউল করিম আবির। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম প্রহরেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসতে চেয়েছিলাম। প্রতিবার টেলিভিশনে শ্রদ্ধা জানানো দেখেছি। ভেবেছিলাম এবার রাতেই নিজে সশরীরে হাজির হয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবো। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতে আসিনি। এজন্য রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছি।

দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছেন আফজাল হোসেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, ভাষার ইতিহাস সন্তানদের জানাতে করোনার নির্দেশনা মেনেই বাচ্চাদের নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছি। ছোট থেকেই আমাদের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে ওরা যেন পরিচিত হয় সেজন্যই সকাল সকাল সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজির হয়েছি।

তাদের মতো শহীদ মিনারে যারা এসেছেন তাদের অনেকের হাতে ছিল ফুলের তোড়া। তবে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতি থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ করছেন শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষ। শ্রদ্ধা জানানো শেষে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

শহীদ মিনারে প্রবেশ ও এই এলাকা ত্যাগ করার জন্য আলাদা পথ করা হয়েছে। একমুখি চলাচলের জন্য এবার শ্রদ্ধা শেষে শহীদ মিনার ত্যাগ করার পর আর প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।