অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের দিন শুক্রবার

আপডেটঃ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১৫, ২০২১

ধর্ম ডেস্ক: শুক্রবার সাপ্তাহিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে আসে অফুরন্ত রহমত ও বরকত লাভের সুযোগ। আল্লাহ চান কোন সুযোগে বান্দাকে ক্ষমা করা যায়। আর বান্দাও চায় কোন সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্রষ্টাকে রাজি ও খুশি করা যায়।
জুমার দিন এমনি একটি সুযোগের দিন। যাতে অনেক নেকি ও নৈকট্য অর্জন করা যায়। আল্লাহ তায়ালা ‘জুমা’ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা নাজিল করেছেন। জুমার নামাজের কথা এ সুরায় বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের জন্য ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। ’ (সুরা জুমা: আয়াত ৯-১০)।
যে ব্যক্তি জুমার দিনে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জুমার আমল আদায় করে আল্লাহ তায়ালা তার জীবনের পাপসমূহ মাফ করে দেন। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে অথবা ঘরের সুগন্ধি নিয়ে লাগায়। অতপর জুমার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করে দুজনের মধ্যে পৃথক করে না। তারপর তার ভাগ্যে যতটা লেখা হয়েছে, ততটা নামাজ আদায় করে, তারপর যখন ইমাম খুৎবা দেয় তখন সে চুপ থাকে, তাহলে তার জন্য এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত কৃত পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ’ (বুখারি : ৮৮৩, ৯১০; নাসায়ি)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যার ওপর সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম: ১৪১০)।
জুমার দিন আগে আগে মসজিদে আসার চেষ্টা করা চাই। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন (ফরজ গোসলের মতো) গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয় সে যেন একটি উট কোরবানি করল, তারপরে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কোরবানি করল, তারপরে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কোরবানি করল। অতপর চতুর্থ সময়ে প্রবেশকারী ব্যক্তি মসজিদে গেল, সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করল। আর পঞ্চম সময়ে প্রবেশকারী ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল, সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। অতপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়। ’ (বুখারি : ৮৮১)।
আরেক বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করায়, অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং (নিজেও ফরজ গোসল করে, আগে আগে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে  গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়। অর্থাৎ কোনো কিছুতে আরোহণ করে নয়) ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোনো কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব। ’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৫৪)। তাই আমরা যেন ইচ্ছাকৃতভাবে জুমা ত্যাগ না করি এবং এ দিনটির যথাযথ মর্যাদা দিই। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তওফিক দান করুন।