সেই ছোট্ট ‍মুন্নি এখন যা করছে

আপডেটঃ ১:৫৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৯, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক: অডিশনে প্রায় ৮ হাজার বাচ্চার মধ্যে বেছে নেয়া হয়েছিল তাকে। তারপর ৭ বছরের সেই খুদেই হলো ছোট্ট মুন্নি। পাকিস্তানে তাকে নিজের পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার গল্প নিয়ে তৈরি হলো ‘বজরঙ্গি ভাইজান’। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের সুপারহিট ছবির পরিচালক কবীর খান। এটি কবীরের প্রথম চলচ্চিত্র।

পরিচালক কবীর খান এবং কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর মুন্নি চরিত্রের জন্য অডিশনের মাধ্যমে বেছে নিয়েছিলেন হার্ষালি মালহোত্রকে। যেটা মুন্নির প্রকৃত নাম। ৮ হাজার বাচ্চা মেয়ের মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছিল তিনজন। তারপর তাদের নিয়ে ১০ দিনের একটা ওয়ার্কশপ হয়। সেখান থেকেই বেছে নেয়া হয় হার্ষালিকে।

ছবিতে পাকিস্তানের পাহাড়ি গ্রামের ছোট্ট মেয়ে শাহিদা এক দুর্ঘটনার পরে হারিয়ে ফেলেছিল কথা বলার শক্তি। তাকে নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এক ধর্মস্থানে এসেছিলেন তার মা। ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে থেমে থাকা ট্রেন থেকে নামে শাহিদা, রেললাইনে চলে আসা ভেড়ার ছানাকে সরিয়ে দিতে। সে আবার ওঠার আগেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। সম্পূর্ণ অচেনা অজানা দেশে একা হয়ে যায় ছোট্ট মেয়েটি।

ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় একনিষ্ঠ হনুমানভক্ত পবনকুমার চতুর্বেদির। তার পর কী করে শাহিদাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন পবন? সেই নিয়েই টানটান চিত্রনাট্যে এগোয় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবির গল্প।

যেহেতু একরত্তি মেয়ে শাহিদা কথা বলতে পারত না, তাই তার নামও জানতে পারেনি পবন। তাই তাকে ডাকা হতো ‘মুন্নি’ নামে। এরপর সেটাই তার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। আর মুন্নির মনে পবনকুমার হয়ে যান ‘বজরঙ্গি ভাইজান’। এই ছবি ছোট্ট ওই মেয়েটিকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়।

ছবিতে শাহিদা ওরফে মুন্নি কথা বলতে পারত না। কিন্তু পর্দার বাইরে মুন্নি ওরফে হার্ষালি কথা বলতে খুবই ভালোবাসে। হার্ষালির জন্ম মুম্বইয়ে, ২০০৮ সালের ৩ জুন। বাবা বিপুল মালহোত্র, মা কাজল মালহোত্র এবং দাদা হার্দিক মালহোত্রর সঙ্গে সে মুম্বাইয়েই থাকে।

‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর আগে হার্ষালি কাজ করেছে ছোট পর্দায়, ‘কবুল হ্যায়’ এবং ‘লওট আও তৃষা’ ধারাবাহিকে। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর পরে ২০১৫ সালে সালমানের ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতেও তার অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে বাদ পড়ে। এরপর আর কোনো ছবিতে এখনো অভিনয় করেনি হার্ষালি।

২০১৯ সালে ‘নাস্তিক’ নামে একটি ছবিতে অবশ্য সে অভিনয় করছিল। কিন্তু অর্জুন রামপাল অভিনীত ছবিটির কাজ মাঝপথে আটকে রয়েছে। এখনো মুক্তি পায়নি। ইতিমধ্যেই বহু বিজ্ঞাপনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে হার্ষালি। সেদিনের খুদে মুন্নি আজ ১২ বছরের কিশোরী। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের বেশ কিছু ছবি দিয়েছে সে।

শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হার্ষালি মেতে উঠেছে দীপাবলির আনন্দে। এক ঢাল চুল এবং নিষ্পাপ মুখের মধ্যে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে ৫ বছর আগের ছোট্ট মুন্নি।

‘ভাই দুজ’ অনুষ্ঠানের ছবিও শেয়ার করেছে হার্ষালি। বিনোদন দুনিয়ায় কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনাও মন দিয়ে করে সে। তার সাম্প্রতিক ছবি দেখে দর্শকরা ভাবতেই পারছেন না, সে দিনের মুন্নি আজ এত বড় হয়ে গেছে!