নরসিংদীর হাড়িধোয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন : ঝুঁকিতে তীরবর্তী কৃষি জমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

আপডেটঃ ৭:০১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০২০

এম.এ সালাম রানা, নরসিংদী: নরসিংদীর হাঁড়িধোয়া নদী থেকে অবাধে বালি উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে নদীর ওপর নির্মিত সেতু ও কালভার্ট। এছাড়া কৃষিজমি আর বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। বালি উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না নদীপাড়ের মানুষ।

জেলার অন্যতম নদী হাঁড়িধোয়া। প্রায় ৪১ কিলোমিটার এ নদীর দক্ষিণ তীরেই রয়েছে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চল। সম্প্রতি এ নদী থেকে প্রভাবশালীরা ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন বসিয়ে দিনরাত বালি উত্তোলন করছে। এভাবে মেশিন দিয়ে একই স্থান থেকে মাসের পর মাস বালি উত্তোলনের ফলে সেখানে গভীরতা হচ্ছে ৫০-৬০ ফুটের মতো। এর ফলে আশপাশের রাস্তাঘাট ও নদীর ওপর নির্মিত সেতু মারাত্মকভাবে হুমকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া নদীর আশপাশের কৃষকের জমি নষ্ট করে বালি ফেলায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরাও।

স্থানীয়রা জানান, হাঁড়িধোয়া নদীর ভেলানগর ব্রিজ থেকে শুরু করে শিবপুর উপজেলার সাধারচর দিয়ে অবশেষে চরসিন্দুর হয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলন করছে একাধিক চক্র। এ বালি নদীর পার্শ্ববর্তী কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে তাতে ফেলা হচ্ছে। আর এখান থেকেই এ বালি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এভাবে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর এ ৪১ কিলোমিটারের অংশে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ১০-১২টি ব্রিজ। এসব ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে থাকে বাস, ট্রাকসহ ছোট-বড় যানবাহন।

চক্রটি এসব মেশিন দিয়ে দিনরাত সমানতালে নদী থেকে বালি উত্তোলন করছে। উত্তোলনকৃত বালি ট্রাকে করে অধিকাংশই বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। আবার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে বাড়ি-ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটি ভরাটের কাজেও। এভাবে যত্রতত্রভাবে বালি উত্তোলনের ফলে বেশ কয়েক জায়গায় নদীপাড়ের রাস্তা ভেঙে গেছে। এছাড়া ব্রিজের পাশ থেকে বালি উত্তোলনের ফলে যেকোনো সময় ব্রিজের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।

তবে এ মাটি কাটার ইঞ্জিনচালিত মেশিনগুলো অবৈধ হলেও অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেদার বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে। ফলে সমাজের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে কেউ ভয়ে তাদের কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নদী থেকে অবাধে বালি উত্তোলন করে বিক্রির ফলে স্থানীয়ভাবে কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গজারিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রামের আমিনুল ইসলাম খোকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বদুরুজ্জামান ভূইয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

নদী থেকে অবাধে বালি উত্তোলনের বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি একাধিকবার অভিযান পারিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বালি উত্তোলনের অভিযোগে গজারিয়া বাজারের পাশে নদী থেকে শাহজালাল এন্টারপ্রাইজের শহিদুল ইসলাম ও আবু ছালেহ মো. রায়হান নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীকালে আটককৃতরা বালি উত্তোলন না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এর পরও বালি উত্তোলনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

নদী থেকে এভাবে অবাধে বালি উত্তোলনের বিষয়টি লুটপাটের মতো হয়ে জনসম্মুখে বিরাজ করছে। তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এটি এখনই বন্ধ না হলে নদীর ওপর ব্রিজ ও রাস্তঘাট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া নদীপাড়ের বাড়িঘরও নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে সচেতন মহল।

সি এন এ নিউজ/জামান