সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার

আপডেটঃ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক: ১৯৫৯ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যাযের। তার আগে তিনি রেডিওর ঘোষক ছিলেন এবং টুকটাক মঞ্চে অভিনয় করতেন। সেখান থেকেই পরবর্তীতে প্রবেশ করেন চলচ্চিত্র জগতে। দীর্ঘ ৬১ বছরের ক্যারিয়ারে কতটি ছবিতে যে তিনি অভিনয় করেছেন, তা বলা মুশকিল।

যেহেতু সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি নির্মাতার হাত ধরে তিনি চলচ্চিত্রে এসেছিলেন, তাই পরবর্তীতে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কারণ, অভিনয় প্রতিভা দেখিয়ে শুরুতেই তিনি সত্যজিতের মন জয় করে নিয়েছিলেন। যার ফলে এই নির্মাতার অমর সৃষ্টি ‘ফেলুদা’ সিরিজের বেশ কয়েকটি ছবিতে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছিল সৌমিত্রের।

প্রয়াত এই অভিনেতার উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্র হলো- অপুর সংসার, স্বরলিপি, শাস্তি, আগুন, বেনারসী, অভিযান, সাত পাকে বাঁধা, চারুলতা, বাক্স বদল, কাপুরুষ, মনিহার, কাচ কাটা হিরে, অঙ্গীকার, হঠাৎ দেখা, অজানা শপথ, বাঘিনী, পরিণীতা, অপরিচিত, চেনা অচেনা, বসন্ত বিলাপ, অশনি সংকেত, এপার ওপার, অসতী, দেবদাস, হীরক রাজার দেশে, ঘরে বাইরে, মহাপৃথিবী, পাতালঘর, পামিতার একদিন ইত্যাদি।

এত এত ভালো কাজের যথাযথ পুরস্কারও পেয়েছেন সৌমিত্র। ২০০৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্ম ভূষণে সম্মানিত করে। ২০১২ সালে তিনি পান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার। এছাড়া ২০১৭ সালে ফ্রান্স সরকার সৌমিত্রকে দেয় লিজিওন অব অনার। একই বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার হাতে তুলে দেয় বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে ছোট-বড় আরও বহু সম্মাননা।

কিন্তু সবকিছু রেখে রবিবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন কলকাতার এই কিংবদন্তি অভিনেতা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি পশ্চিম বাংলার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার দুপুর নাগাদ সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহামারি করোনাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। করোনা জয় করলেও অন্য সমস্যাগুলো তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি।