‘শিল্প কখনো অশ্লীল হয় না, অশ্লীল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি’

আপডেটঃ ২:৫৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১২, ২০২০

বিনোদন প্রতিবেদক: দুষ্টু হাসির মিষ্টি মেয়ে মৌসুমী হামিদ। মাঝে এক পরিচালকের সাথে চুটিয়ে প্রেম করেন তিনি। কাজের চেয়ে তাকেই তখন বেশি সময় দিতেন। যার কারণে কাজ কিছুটা কমিয়েও দিয়েছিলেন। পিছিয়ে গিয়েছিলেন কাজ থেকে। তবে সে সম্পর্ক ভেঙে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন।

শোবিজ অঙ্গনে তার পথ চলার শুরুটা হয়েছিল লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর থেকে নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ছোট পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনয় করে চলেছেন চলচ্চিত্রেও। মৌসুমী হামিদ দীর্ঘ দিন ধরেই সিনেমার খবরে নেই।

তবে লম্বা বিরতি শেষে যুক্ত হয়েছেন সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘১৯৭১ সেই সব দিন’ চলচ্চিত্রে। এটি পরিচালনা করছেন নাট্যাভিনেত্রী হৃতি হক। সম্প্রতি পুরান ঢাকার একটি লোকেশনে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় একটি চরিত্রেই অভিনয় করছেন তিনি।

এর আগে প্রশান্ত অধিকারীর পরিচালনায় ‘হাডসনের বন্দুক’ নামের একটি সরকারি অনুদানের ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এই অভিনেত্রী। যদিও ছবিটি আর মুক্তি পায়নি। আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এদিকে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘গোর’ নামের একটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। বর্তমানে ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এটি আগামী জানুয়ারিতে আমেরিকার নিউইয়র্কে প্রথম মুক্তি পাওয়ার কথা। অন্যদিকে খণ্ড নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি।

সঞ্জিত সরকারের পরিচালনায় প্রচার চলতি ‘চিটিং মাস্টার’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। এছাড়া বিশেষ দিবসের নাটকেও তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। মৌসুমী অভিনীত প্রচারের অপেক্ষা আছে টেলিফিল্ম ‘অভিমানী’। পরিচালনা করেছেন সুব্রত সঞ্জীব।

বিনোদন অঙ্গনে এক দশক পার করেছেন মৌসুমী হামিদ। এক দশকের ক্যারিয়ারে সেরা অর্জন কী? জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, এই যে আমি মৌসুমী হামিদ হয়েছি এটাই বড় অর্জন। মফস্বলের এক সাধারণ তরুণী ছিলাম। সেখান থেকে এ পর্যায়ে এসেছি। মানুষ আমাকে চেনে। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

মৌসুমীর মতো লম্বা নায়িকা দেশে কমই রয়েছে। যার ফলে সহশিল্পী পেতে বিপাকেও পড়তে হয়। মৌসুমী শিল্প পছন্দ করেন। সৃষ্টিকর্ম তার অনেক ভালো লাগে। জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন দেখে দেখে শিখেছেন। ভালোবাসেন ছবি আঁকতে। সময় পেলেই আঁকতে বসেন। মৌসুমীর অবসর সময় কাটে বই পড়ে, নাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ দেখে। ভীষণ রোমান্টিক মৌসুমী হামিদ।

মৌসুমী বলেন, সিনেমা হল বন্ধ। ওটিটি বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনা হিসেবে অনেকেই ভাবছেন। এর বাইরে ভাবারও সুযোগ নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচুর কাজ হচ্ছে। এ মাধ্যমটি কতটুকু আশাবাদের? এ মাধ্যমের সাথে আমাদের দেশের জনগণ অভ্যস্ত নয়। অন্য দেশের শিল্পীদের দেখে তারা অভ্যস্ত। আমাদের দেশে সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করছি তবে পারছি না। দর্শকের চাহিদা গুরুত্ব দিতে হবে তারা কী চায়। তাদের চাহিদা অনুযায়ী দিলে অবশ্যই গ্রহণ করবে।

তাছাড়া আমরা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না। নিজেদেরকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো কিছু হুট করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আস্তে আস্তে অভ্যস্ত করতে হবে। আমাদের নতুন কিছু শেখার আগ্রহ কম। শিল্পকে কখনো অশ্লীল বলতে চাই না। অশ্লীল হলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

খুব শিগগিরই নির্মাণে আসছেন মৌসুমী হামিদ। এ পর্যন্ত যা কিছু পেয়েছেন তার পুরোটাই প্রাপ্তি বলে জানালেন এই অভিনেত্রী।