তদন্ত কমিটি: কোরআন অবমাননা হয়নি

আপডেটঃ ২:৩১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১২, ২০২০

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক:পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে শহীদুন্নবী জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাটি গুজবের কারণে ঘটেছে, এতে কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

এ সময় তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম।

quran defame lalmonirhat inner

হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়

 

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে কমিটি কয়েক দফা সময় নিয়ে গতকাল বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে কোরআন অবমাননার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি স্রেফ একটি গুজব। এই গুজব ছড়িয়েই জুয়েলকে হত্যা ও পরে লাশ পোড়ানো হয়েছে।

টিএমএ মমিন বলেন, তাদের কমিটি মোট ৫০ জনের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নিয়েছে। পরে কমিটির সাতটি সভায় তা প্রতিবেদন আকারে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনার যাবতীয় তথ্যের পাশাপাশি চারটি সুপারিশও করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবার বিকেলে শহীদুন্নবী জুয়েলকে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে তার লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

নিহত জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের গ্রন্থাগারিক ছিলেন তিনি। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুয়েলের চাচাত ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী এবং বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।