নির্যাতনে শিশু গৃহপরিচারিকার মৃত্যু ‘আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো’

আপডেটঃ ১:৫৯ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০২০

শেরপুর প্রতিনিধি: আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো, কী অপরাধ করছিল আমার মাইয়া। দুইডা ভাতের লাইগা শাকিলের বাড়িত কাজে দিছিলাম। আর শাকিলের বউ ঝুমুর আমার মাইয়াডারে নির্যাতন কইরা মাইরা হালাইল।’

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সাদিয়ার মৃত্যুর পর তার মা আনোয়ারা বেগম এভাবেই চিৎকার করে আহাজারি করছিলেন, আর মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে ওই সব কথা বলছিলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় গৃহকর্মী সাদিয়া। সে শ্রীবরদী পৌরশহরের মুন্সীপাড়া এলাকার হতদরিদ্র ট্রলিচালক সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসভবন থেকে রাত দেড়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে শিশু সাদিয়াকে। শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুর শিশুটিকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করতেন।

এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, শিশুটির গায়ের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া থেকে শুরু করে গোপনাঙ্গে পর্যন্ত আঘাত করা হয়। নির্যাতনের ফলে তার মাথায় ব্যাপক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পিঠে ছ্যাঁকায় ঘা সৃষ্টি হয়। ওই দিন গভীর রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ ফোন করেন। পরে পৌর শহরের বিথি টাওয়ারের ছয় তলায় শাকিলের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে আসামি ঝুমুরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকা বলেন, ছেলে শাকিলের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। অনেক আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

শ্রীবরদী থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, মেয়েটিকে আমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। ফলে শুক্রবার শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

তিনি বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় গৃহকর্ত্রী ঝুমুর বর্তমানে জেলা কারাগারে আছেন। শিশু সাদিয়া মারা যাওয়ায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।