বাউফলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেটঃ ৫:৩১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২০, ২০২০

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর বাউফলে ভুল চিকিৎসায় হেপী বেগম (৫০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় তিনি মারা যান। হেপী বেগম কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের সোহেল চৌকিদারের স্ত্রী।
মৃত হ্যাপী বেগমের দেবর সজীব চৌকিদার জানান, তার ভাবী হ্যাপী বেগমের প্রসব ব্যোথা শুরু হলে শনিবার দুপুরে উপজেলার কালিশুরি বন্দরে মাজেদা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়ন সরকার দেখে তাকে অস্ত্রোপচারের কথা বলেন । তাঁর কথা অনুযায়ী ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নয়ন সরকার ও তার স্ত্রী চিকিৎসক পূজা ভান্ডারী অস্ত্রোপচার করার পর পুত্র সন্তানের জম্ম হয় । অস্ত্রোপচারের পর তার ভাবীর আর জ্ঞান না ফিরলে ওই দিন রাত ২টায় তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরের দিন রোববার ( ১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে চিকিৎসক নয়ন সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইতিপূর্বে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাউফল হাসপাতালের সামনে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকে ওই চিকিৎসক দম্পতির ভুল চিকিৎসায় একই ভাবে সূর্যমনী ইউপি’র সানেস্বর গ্রামের সুজন দাসের স্ত্রী রিপা রানী (২৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এরপর বিভিন্ন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মৃত হ্যাপী বেগমের স্বামী সোহেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার ( ২০ অেেক্টাবর) কালিশুরি মাজেদা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক ত্র্যান্ড সেন্টারের মালিক ও চিকিৎসক নয়ন সরকারের সাথে বৈঠক আছে দেখি তারা কি সিদ্ধান্ত নেয়।
এবিষয় পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রিপন বলেন, ওই চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে এ জাতীয় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম কাজ করছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসক নয়ন সরকারকে ৩৯তম বিসিএসের অপেক্ষামান তালিকা থেকে করোনাকালীন সময় পটুয়াখালী হাসপাতালে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও সে কর্মস্থলে না থেকে বেশীরভাগ সময় বাউফল উপজেলার কালিশুরি বন্দরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।