এনজিওতে চাকুরীর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আপডেটঃ ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ২৪, ২০১৭

মো. শাহীন আলম, সিএনএ  নিউজ,সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে কথিত এনজিওকর্মী আবদুস সোবহান বিচ্ছু নামের এক প্রতারক নিজেকে বেসরকারী সংস্থা আহসানিয়া মিশনের একাউন্টস অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনকে ওয়াশ প্রজেক্টে মাঠকর্মী পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠছে।
আহসানিয়া মিশনের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, আহসানিয়া মিশনে এ ধরনের প্রতারণার কোন সুযোগ নেই। দিরাইয়ে আমাদের কোন অফিস নেই, আবদুস সোবহান বিচ্ছু নামের কেউ আমাদের সংস্থায় কাজ করেন না।’
জানা গেছে, আবদুস সোবহান শুক্রবার দিরাই থানা রোডস্থ হোটেল নাদের রিয়াজের ২০৪ নম্বর রুমে অবস্থান করে স্থানীয় কতিপয় দালালদের মাধ্যমে অভিনবভাবে এ প্রতারণার কাজ চালিয়েছেন। আবদুস সোবহান বিচ্ছু পাবনার চাটমহর নতুন বাজার কালীনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর-২ রূপনগর মামার বাসায় থাকেন বলে জানান। দীর্ঘদিন বেসরকারি সংস্থা পপিতে কাজ করার সুবাদে দিরাইয়ের অনেকের সাথেই তার পরিচয় হয়। এলাকার পরিচিত ছেলে মনে করে বেকার দরিদ্র নারী ও পুরুষরা তার উপর বিশ্বাস করে সাক্ষাত করতে আসেন। তার কথামত চাকুরী পাওয়ার লোভে অনেকেই একটি বিকাশ নাম্বারে টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও কোন আবেদন ছাড়াই ৫-১০ হাজার টাকার বিনিময়ে চাকুরী দেয়া হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে হোটেল নাদের রিয়াজে উপস্থিত হলে দেখা যায়, হোটেলের ২০৪ নম্বর রুমে বসে আছেন আবদুস সোবহান বিচ্ছু এবং রুমের ভেতর ও বাহিরে বেশ কয়েকজন নারী পুরুষ আসা যাওয়া করছেন।
অভিযুক্ত আবদুস সুবহান বিচ্ছু বললেন, দিরাইয়ে আহসানিয়া মিশনের ওয়াশ প্রোগ্রাম নামে একটি প্রজেক্ট চালু করা হবে। অফিস ভড়ার কথা চলছে, ৯ ইউনিয়নে মাঠকর্মী নিয়োগের কাজেই তিনি দিরাই এসেছেন। জাহাঙ্গীর নামে ঢাকা অফিসে তাদের একজন বস আছেন, যার পার্সোনাল বিকাশ নাম্বার ০১৮১১-৩২১৬১৭, উনার কাছেই টাকা দেয়া হচ্ছে। আবদুস সোবহান বিচ্চু প্রত্যেকের কাছে নিজের মোবাইল ফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ওই বিকাশ নাম্বারটি পাঠিয়ে দেন। ওই বিকাশ নাম্বারে চাকুরী প্রার্থীরা ৫ -১০ হাজার টাকা বিকাশ করেছেন বলে জানা যায়। আবদুস সোবহান জোর দিয়ে বলেন, যারা বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়েছেন তাদের সকলের চাকুরী হবে নিশ্চিত। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের আমাদের ওয়াশ প্রজেক্টের কাজ চালু হবে।
আহসানিয়া মিশন নামে কথিত একাউন্টস অফিসার আবদুস সোবহান বিচ্ছু শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের পাপড়ি রানী দাস ও অর্পিতা রানী রতœাসহ দিরাই উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সবিতা রানী দাস, হাসিমপুর গ্রামের মন্দিরা রানী দাস, ভাঙ্গাডহর গ্রামের নিকেশ দাসের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেন। শতাধিক দরিদ্র বেকার শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত নারী পুরুষের কাছ থেকে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কল্যানী গ্রামের ¯েœহলতা দাস জানান, সোবহান স্যার বেসরকারি সংস্থা পপিতে চাকরী করতেন। সেই সুবাধে আমাদের কাছে পরিচিত। উনি ফোন দিয়ে আমাকে জানান ওয়াশ সংস্থা নামে আহসানিয়া মিশনের একটি প্রজেক্টে কিছু লোককে চাকুরী দেয়া হবে। ফোন পেয়ে শুক্রবার হোটেল নাদের রিয়াজের ২০৪ নং রুমে দেখা করতে আসি। দেখা করার পর চাকুরীর জন্য ১০ হাজার টাকার বিকাশে বসের কাছে পাঠাতে হবে বলে সোবহান সাব জানান। ছন্দা রানী দাস জানান, ওয়াশ প্রজেক্ট চালু হবে, ইউনিয়ন ভিত্তিক কর্মী নিয়োগের খবর পেয়ে ওই দিন হোটেলে উনার সাথে দেখা করতে আসি। শুনেছি ১০ হাজার টাকা দুই কিস্থিতে দিতে হবে, টাকা না দিতে পারলে চাকুরী হবে না।
শনিবার হোটেল নাদের রিয়াজ কর্তৃপক্ষ জানান, শুক্রবারে আবদুস সোবহান ২০৪ নং রুম ভাড়া নেন এবং কাজ শেষে ওইদিন বিকেলেই তিনি রুম ছেড়ে চলে যান।