ব্রেকিং নিউজঃ

শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের লক্ষ্যে পুনঃবিবাহে কুরআনের বিধান

আপডেটঃ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৭

ধর্ম ডেস্ক:আল্লাহ তাআলা আগের আয়াতে স্ত্রীদের নির্যাতনের বিষয়ে স্বামীদের প্রতি সুস্পষ্ট বিধান ঘোষণা করেছেন। আয়াত নাজিল করে তাদের সুন্দর এবং উন্নত জীবন ব্যবস্থার দিক-নির্দেশনা ও উপদেশ প্রদান করেছেন।

অতঃপর তালাক পরবর্তী সময়ে যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে না নেয়। ইদ্দত পালন করার পর যদি তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়; সে ক্ষেত্রে স্ত্রীদের অভিভাবকরা আগের স্বামীর প্রতি ঘৃণাবশত এ সব ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করতো।

যদি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে রাজি থাকে তবে অভিভাবকরা যেন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সে বিধান জারি করে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

Quran

আয়াতের অনুবাদ

Quran

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২৩২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তালাকপ্রাপ্ত নারীদের অপেক্ষার সময় অতিবাহিত করে ইদ্দত পালন শেষে তাদের পছন্দমতো আগের স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। এ পন্থাকে আল্লাহ তাআলা স্ত্রী ও স্বামীদের জন্য কল্যাণকর সর্বোত্তম ও পবিত্রতম পন্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

এ আয়াত হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বোন জুমলা বিনতে ইয়াসার সম্পর্কে নাজিল হয়। স্বামী বাদাহ ইবনে আসেম তাঁকে তালাক দেয়। যখন জুমলা বিনতে ইয়াসার তালাক পরবর্তী ইদ্দত পূর্ণ হয়; পুনরায় বাদা ইবনে আসেম বিবাহের পয়গাম নিয়ে উপস্থিত হয়।

তখন মাকাল ইবনে ইয়াসার বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে আমার বোনের বিবাহ দিয়েছিলাম; কিন্তু তুমি তাকে তালাক দিয়েছ। আল্লাহর শপথ! এখর আর তোমার গৃহে আমার বোন যাবে না।

এদিকে জুমলা বিনতে ইয়াসারের ইচ্ছা ছিল সাবেক স্বামীর গৃহে ফিরে যাবার জন্য। এমনি অবস্থায় এ আয়াত নাজিল হয়।

এ সময় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসারকে ডাক দিয়ে তাঁর সম্মুখে এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন।

এ আয়াত শুনে হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার বলেন, ‘হে আল্লাহর! আমি রাজি হয়েছি। আমি আপনার আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছি।

অতঃপর নিজের বোন জুমলা বিনতে ইয়াসারকে তার সাবেক স্বামী বাদাহ ইবনে আসেমের কাছে পুনরায় বিবাহ দেন।

আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি এ আয়াতের নির্দেশ হলো- যদি নিয়ম মেনে স্বামী-স্ত্রী পুনঃমিলনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে প্রস্তুত হয় তবে তোমরা তাতে বাধা দিও না। স্ত্রীদের মতামত এবং তাদের কল্যাণের প্রতি গুরুত্বারোপ কর। তোমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি নজর না দিয়ে তাদের মতামতের প্রাধান্য দাও।

যেহেতু এ আয়াতে বিশেষভাবে স্ত্রীদের অভিভাবকদের প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; তাই তাদের তথা সব আত্মীয়-স্বজনের একটি বড় দায়িত্ব হলো- নারীদের সঠিক ও যোগ্য পাত্রের সঙ্গে বিবাহের ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে নিজেদের ভাবাবেগকে প্রাধান্য না দিয়ে নারীদের মতামত গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য যে-
বংশ মর্যাদা (কুফু) না মিললে বা শরিয়ত নির্ধারিত কোনো নিয়মের বিরোধ থাকে অথবা নারী প্রথম স্বামীর তালাক প্রদানের পর ইদ্দত পূর্ণ হবার আগেই অন্য কোথাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়; এমন সব অবস্থায় নারীদেরকে বাধা দেয়ার অধিকার অভিভাবকদের অবশ্যই থাকবে।

পড়ুন- সুরা বাকারার ২৩১ নং আয়াত

পরিষেশে…
আল্লাহ তাআলা বান্দার মনের সব কথা জানেন। স্বামী-স্ত্রীকে সারা জীবন একাত্ম হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। দাম্পত্য জীবনে পরস্পরের মেজাজ সব সময় এক নাও হতে পারে। এমতাবস্থায় নিতান্ত প্রয়োজনে ইসলামের নিকৃষ্টতম বৈধ কাজ তালাকের পন্থা অবলম্বনের অনুমতি রয়েছে ইসলামি শরীয়তে।

এ সব অবস্থায় যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গরমিল হয় তবে স্বামী প্রথমত সবর অবলম্বন করবে। জেনে রাখবে স্ত্রীর মধ্যে একটি দোষ থাকলে আরেকটি গুণও আছে। অতএব স্ত্রীকে আদর-সোহাগ দিয়ে, ইহসানের নীতি অবলম্বন করে উদারতা ও মহানুভতার পরিচয় দিয়ে আপন করে নেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে ইসলাম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব স্বামী-স্ত্রী ও তাদের অভিভাবকদের কুরআনের বিধান যথাযথ বাস্তবায়নের এবং সবার প্রতি পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে ইহসান অবলম্বনের তাওফিক দান করুন। আমিন।