ব্রেকিং নিউজঃ

ধর্ষণের রাজধানী!

আপডেটঃ ২:৪১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৬, ২০১৫

ডেস্ক:

আফ্রিকার দেশ ডোমিনিক রিপাবলিক অব কঙ্গো যেখানে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাধ্য করা হয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যোগ দিতে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন স্ত্রী রোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডেনিস মুকেয়েজ। তিনি নারী-পুরষের সমতা তৈরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সপ্তাহে কঙ্গোর সাউথ কিভু প্রদেশে শতাধিক নারীর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে এই ধর্ষণের কাজটি প্রতিনিয়তই চলে। তবে এই নির্যাতন গত এক দশকের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফলে ওই অঞ্চলটি বিশ্বের ‘ধর্ষণের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। অনেক নারী মুকেয়েজের হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা নেন। গত ১৮ বছর ধরে তিনি এই এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই হাসপাতালটি বুকাভু এলাকায় অবস্থিত যেখানে প্রতিনিয়তই সংঘর্ষ লেগে থাকে। এখানে সংঘর্ষের মূল দিক হচ্ছে ধর্ষণ। এর মাধ্যমেই সেখানে মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করা হয়।

ওই অঞ্চলে চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। মুকেয়েজ একমাত্র চিকিৎসক যিনি ধর্ষিতাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনি ৪০ হাজার ধর্ষিতার জীবন রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ নারীই ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের সময় সৈন্য এবং মিলিশিয়াদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন যা এখনো চলছে। মুকেয়েজ বলেন, ‘আমি দেখেছি, ধর্ষণের ফলে নারীরা কি ধরনের মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। আমি দেখেছি যুদ্ধের সময় ধর্ষণ কিভাবে একটি প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। এটা নির্যাতনের একটি পদ্ধতি। এটা জনগনকে সন্ত্রাসী বানানোর একটি অন্যতম উপায়। ধর্ষিতা নারী-শিশুদের দেখে আমার এই ধারণা হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক করা হয়নি, মূলত এর মাধ্যমে ক্ষমতার ঔদ্ধত্য দেখনো হয়েছে। ধর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর নৃশংসতা চালানো হয়েছে। এক তথ্যে জানা যায়, ২০০৬-০৭ সালে কঙ্গোতে প্রতি ঘন্টায় ৪৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। আর সাউথ কিভুতে সম্প্রতি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রতিদিন ৪০ জন নারী ধর্ষণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।

মুকেয়েজ বলেন, রুঢ় বাস্তবতা হচ্ছে, একটি ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়ে যখন অন্ত:স্বত্ত্বা হন এবং আমরা তাকে ওই সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহ দিই। যদি মেয়ে হয় তাহলে দেখা যায়, কিছুটা বড় হওয়ার পর ওই মেয়েও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অর্থাৎ ধর্ষিতা মায়ের মেয়েও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। মুকেয়েজ তার কর্মকান্ডের জন্য গত বছর ইউরোপীয় ইউয়িনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘শাখারভ পুরস্কার’ পেয়েছেন। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান