ব্রেকিং নিউজঃ

সেকেলে প্রেম বনাম একেলে প্রেম

আপডেটঃ ২:৩০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৬, ২০১৫

ডেস্ক:
১. প্রথম দেখা
সেকালে: বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়েতে গিয়ে মেয়েটিকে মনে ধরে ছেলেটির।

একালে: ফেসবুকে বন্ধুর বোনের সঙ্গে মেয়েটির ডাক ফেসে তোলা সেলফি দেখে ক্রাশ খায় ছেলেটি।

২. প্রেমের শুরু

সেকালে: চলতে থাকে তাদের বই আদান-প্রদান। বই তো নয়, আসলে বইয়ের ফাঁকে প্রেমপত্র দেওয়া-নেওয়া। পড়ালেখার নাম করে বই খুলে চিঠি পড়া, কল্পনায় দুজনের হেঁটে চলা। দিব্যি চলতে থাকে তাদের প্রেম। কাকপক্ষীও টের পায় না তাদের ভেতরের খবর।

একালে: কম্পিউটারে পিডিএফ পড়ার নাম করে ফেসবুক ওপেন করে দিব্যি তাদের প্রেম চলতে থাকে। পরিবারের কেউই টের পায় না কিছু। তবে ফেসবুকে একে-অপরের ওয়ালে লেখা গদগদ বার্তাগুলো পড়ে তাদের প্রেমকাহিনির সব অজানা প্রকাশিত হয় ফেসবুকবাসীর কাছে।

৩. প্রথম বার্তা

সেকালে: কীভাবে কী করবে বুঝতে পারে না ছেলেটি। তারপর মেয়ের এক বান্ধবীকে দিয়ে দীর্ঘ চিঠি দেয় বইয়ের ভেতরে লুকিয়ে। মেয়েটিও ছেলেটিকে পছন্দ করে ফেলে।

একালে: কীভাবে কী করবে বুঝতে পারে না ছেলেটি। বন্ধুর ছোট বোনের প্রোফাইলে ঢুকে মেয়ের ফেসবুক আইডি পায় সে। পাঠায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, সঙ্গে ছোট্ট একটা মেসেজ। মেয়েটারও ছেলেটার প্রোফাইল পিক আর কভার পিক পছন্দ হয়ে যায়। সঙ্গে ছেলেটির বাংলিশ মেসেজও তার কাছে মনে হয় ড্যাম স্মার্ট!

৪ প্রথম ডেট

সেকালে: একদিন তারা সিদ্ধান্ত নেয়, দেখা করবে। প্রথম দেখা, তাই চূড়ান্ত উত্তেজনা। একদম প্রথম দিন মেয়েটিকে যে জামা পরে দেখেছিল, সেই জামাটাই পরে আসতে বলে ছেলেটা।

একালে: একদিন সিদ্ধান্ত নেয় তারা দেখা করবে। প্রথম দেখা, তাই ‘ফিলিং এক্সাইটেড’! একদম প্রথম দিন সেলফি তোলার সময় মেয়েটি যে পোশাকটা পরেছিল, সেটাই পরে আসতে বলে ছেলেটি।

৫ প্রথম বিপত্তি

সেকালে: এখানেই ঘটে বিপত্তি। তারা যে পার্কে দেখা করতে যায়, সেখানেই বিকেলে হাঁটতে গিয়েছিল মেয়েটির পাশের বাসার এক খালা। দেখা হওয়ার পর অবশ্য ভালোভাবেই কথা বলেন তিনি। কিন্তু পরে ব্যাপারটা গিয়ে জানান মেয়ের বাসায়! মেয়ে বুঝতেও পারে না সামনাসামনি তিনি ভালোভাবে কথা বললেও বাসায় জানালেন কেন!

একালে: মেয়েটি ছেলেটির সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে ফেসবুকে চেকইন দেয়। এখানেই ঘটে বিপত্তি। পাশের বাসার এক আন্টি সেই চেকইন দেখে ফেলেন। সেখানে তিনি লাইক দেন, সঙ্গে কমেন্টে একটা ‘হ্যাপি’ ইমোটিকনও দিতে ভোলেন না। কিন্তু সেই তিনিই সবকিছু ফাঁস করে দেন মেয়ের মায়ের কাছে! প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়ে দেন একটা স্ক্রিনশট! মেয়ে বুঝতে পারে না স্ট্যাটাসে লাইক-কমেন্ট দিলেও আন্টি কেন মাকে সব জানিয়ে দিলেন!

৬ প্রেমের সমাধি

সেকালে: বাসার সবাই মেয়ের ওপর তুমুল চাপ প্রয়োগ করে। নির্দেশ করা হয় যেকোনো মূল্যে সেই ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার জন্য। বাসায় নতুন বই এলেই আর রক্ষা নেই, সব দোষ মেয়ের! তাই সব বাজেয়াপ্ত। ফলে ছেলের পাঠানো চিঠিগুলো চলে যায় মেয়ের মায়ের হাতে। ছেলেটির সঙ্গে মেয়েটির যোগাযোগের সব পথ বন্ধ। এভাবেই তাদের প্রেমের সেকেলে সমাধি ঘটে।

একালে: বাসায় মেয়েটির ওপর অত্যাচার শুরু হয়। ছেলেটিকে ব্লক করতে বলা হয় ফেসবুকে। ছেলেটির অন্যান্য অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো সব মেসেজও দৃষ্টিগোচর হয় সবার। একসময় মেয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটাই ডি-অ্যাকটিভেট করাতে বাধ্য করেন তারা। পাল্টানো হয় ফোনের সিম। এভাবেই তাদের প্রেমের একালে সমাধি ঘটে।