বাঁশ শিল্পই যাদের জীবিকা নির্বাহের সম্বল

আপডেটঃ ৭:৪২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭

মোঃ হুমায়ুন কবির, সি এন এ  নিউজ,বাউফল (পটুয়াখালী) :ভালো নেই পটুয়াখালীর বাউফলের বাঁশ শিল্পীরা। বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ শিল্পকে বেকার পরিবার পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। এ বৈচিত্র্যময় বাঁশ শিল্প জিবিকা নির্বাহের কারিগর। বাঁশের তৈরি হরেক রকম পণ্য বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাঁশ শিল্প নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য গ্রাম হচ্ছে উপজেলার বিলবিলাস, গোসিংগা,কনকদিয়া ,আদাবাড়িয়া ,তাঁলতলি , বগা , ছিটকা, রাজাপুর । এসব এলাকায় শতাধিক পরিবার বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে। উপজেলার কনকদিয়া ,কালাইয়া, বগা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় বাঁশের তৈরি পন্য বিক্রি করতে । কথা হয় বগা বাজারের রামকুমার শিকদার (৫০) এর সাথে, প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার টাকার বাঁশের পন্য বিক্রি করে থাকে। বাঁশ শিল্পী নিত্যরঞ্জন শিকদার (৪০) , সুরশী রাড়ী (৩৫) ও কালাই লাল (৪৫), ফকু শিকদার (২৫), সুরবালা (৪২),কৃ কান্ত (৩৩) পূর্নিমা (২৮) বাঁশ শিল্পের কাজ করে সপ্তাহে ৫শ থেকে ৮শ টাকা আয় করে খাকে। সুলেখা রানী গৃহকাজের পাশাপাশি মোড়া বিক্রি করে প্রতি মাসে উপার্জন করে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা। সুলেখা রানী ছোট, মধ্যম ও বড় তিন ধরনের মোড়া তৈরি করে থাকে। প্রতি মড়া বিক্রি করলে ৫০-৭০ টাকা মজুরী বাবদ লাভ হয়। ওই লাভ দিয়ে তার সংসার চলে। সুলেখা বেগমের বাবার বাড়ি ঢাকার কাচপুর ব্রিজ এলাকা থেকে মোড়া তৈরির কাজ শিখেছে বলে জানায়। খোজ নিয়ে জানা যায়, বাউফল সহ দক্ষিণা লের প্রত্যেক বাড়িতে কমবেশি বাশ ঝাড় ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্বির ফলে আবাদী জমি ও বসত বাড়ি তৈরির প্রয়োজনে বাশ ঝাড় বিলুপ্তির দ্বার প্রাস্তে। উপজেলার ক্ষুদ্র বাশ শিল্পরা জানায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা , প্রশিক্ষন ও আর্থিক সাহায্য পেলে বাঁশের শিল্প কারখানা গড়া সম্ভব। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাঁশ শিল্পের শোরুম নির্মান সহ প্রতিবছর বাঁশ শিল্পের মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। বেসরকারি সংস্থা এ শিল্পকে নিয়ে কাজ করতে পারে। পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত পণ্য ও গৃহ সাজ সজ্জার পণ্য তৈরি করে দেশ বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র বাঁশ শিল্প কারখানার ফলে গ্রামা লের বেকারত্ব হ্রাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও পরিশ্রমের তুলনায় আয় অনেক কম। তবুও বেচে থাকার জন্য কোন পৃষ্টপোষকতা ছাড়াই চলছে বাঁশ শিল্পের ব্যবসা।