গাজীপুরে স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে জখম মূমুর্ষ সজিব চিকিৎসাধীন

আপডেটঃ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৭

সি এন এ  নিউজ,গাজীপুর : গাজীপুর সদর এলাকার ছোট দেওড়ার বাসিন্দা স্কুল পড়–য়া ছাত্র মোঃ সজিব হোসেন (১৬), পিতা-মোঃ জামিল হোসেন কে স্কুলে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কুপিয়ে আহত করে মূমুর্ষ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে টঙ্গীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন তাকে। গতকাল সন্ধ্যায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য উক্ত স্কুল মাঠের পশ্চিম পার্শে স্কুল লাইব্রেরীর সামনে পৌছা মাত্রই পূর্ব সূত্রতার জের ধরে লাঠি সোঠা, লোহার রড, ছুড়া চাকু সহ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত বেআইনী জনতাবদ্ধে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে বলে জানান আহত সজিব। তিনি যে,কে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। এ ব্যাপারে মূমুর্ষ সজিব বেডে শোয়া অবস্থায় একান্ত সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, তখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এমতাবস্থায় ৭/৮ জনের একটি দল কিছু বুঝে উঠার আগেই আচমকা আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। প্রথমে কিল, ঘুষি তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় তারা। মূহুর্তের মধ্যেই আমি আর কিছু বলতে পারি না। অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকি। আমার বর্তমান অবস্থা খানা-পিনা পানি ছাড়া কিছুই খাওয়া সম্ভব হয়নি। মাজা থেকে নিচ পর্যন্ত দুই পা আমার সাথে আছে কি না তা আমি নিজেই জানি না। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশের দুজন এসআই ঘটনাস্থলে হাজির হয়। সাথে সাথে দুজনকে আটক করার পর স্কুল কমিটি দায়িত্ব রত প্রাইমারি স্কুল সভাপতি আফসার, হাই স্কুল সভাপতি আলতাফসহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ঘটনার মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে আটককৃত দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ সময়ও একদিকে কুপিয়ে স্কুল ছাত্রকে রক্তাক্ত জখম অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলমান। তাৎক্ষনিক সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের স্বার্থে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো অনুষ্ঠানের ক্ষতি না হওয়া। এ ঘটনায় আহত সজীবের সাথে থাকা নগদ ২,৩০০ তেইশ শত টাকা ) ও একটি নকিয়া মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপরে জয়দেবপুর থানায় সাতজনকে আসামী করে গতকাল রাতে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ও ন্যাক্কার জনক ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আহত সজিবের বড় ভাই রাজিব হোসেন জানান, ধীরাশ্রম স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর স্কুল পড়–য়া ছাত্র সজিব হোসেন বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য ছোট দেওড়া স্কুল প্রাঙ্গনে যায়। সন্ধ্যার পরপরই খবর আসে আপনার ছোট ভাইকে কুপিয়েছে। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে যায়। সেখান থেকে প্রত্যেক্ষদোষীর ভাষ্যমতে, আমরা অনুষ্ঠান দেখছিলাম। হঠাৎ দেখি চিৎকার দিয়ে একটি ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। আর ৭/৮ জনের একটি দল দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। নি¤েœ উল্লেখিত সাত জন তার উপর ঝাপটে পড়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা নেওয়ার স্বার্থে সাতজনকে আসামী করে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তারা হলো- (১) মোঃ জামিল (২০), পিতা-মিজানুর রহমান, (২) মোঃ রুদ্র (২২), পিতা-হাবিবুর রহমান, (৩) মোঃ ইয়াসিন (২০), পিতা-খলিলুর রহমান, উভয়ে ছোট দেওড়া চা বাগান এলাকার, (৪) মোঃ সুজন (২০), পিতা-কালু মিয়া, (৫) মোঃ শরীফ (২১), পিতা-খলিল মিয়া, (৬) মোঃ রায়হান (২২), পিতা-মিষ্টার আলী, (৭) মোঃ সাদ্দাম হোসেন (২১), পিতা-অজ্ঞাত, ছোট দেওড়া জয়দেবপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। উল্লেখিত সাতজনকে আসামী করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে মূমুর্ষ সজিবের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলেটিকে এমন ভাবে কুপিয়েছে এটি কোন মানুষের কাজ নয়। ওরা জঘন্য। আমি এর ন্যায় বিচার চাই। আমার ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে এদিক ওদিন ফিরতে পারে না সে। এমনকি প¯্রাব পায়খানাও বেডে শুয়ে শুয়ে করাতে হচ্ছে। আমার আকুতি স্থানীয় প্রশাসন যেন আমার ছেলেকে যারা কুপিয়েছে তাদের বিচার করে। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার জানান আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।