জামায়াত নীরব কেন- প্রশ্ন খালেদার

আপডেটঃ ২:৫০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০১৬

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সখ্য নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ধারাবাহিক অভিযোগে জামায়াত নেতারা কেন সোচ্চার হচ্ছেন না-সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খালেদা জিয়া।

রোববার রাতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের প্রতিনিধির কাছে এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নেত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে জোটের ঐক্যের বিষয়টিও সামনে আসে। তখন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলটির কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হালিমের কাছে খালেদা জিয়া জানতে চান, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মিত্রতা নিয়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে ধারাবাহিক অভিযোগ আর ‘বিদ্রুপ’ করে যাচ্ছে, এ বিষয়ে জামায়াত নেতারা কথা বলছেন না কেন? তাছাড়া অন্য দলগুলো জামায়াত ছাড়ার যে শর্ত তুলছেন তাতে জামায়াত নীরব কেন?

তিনি বলেন, ‘আপনারা তো বলতে পারেন যে, ৮৬-তে, ৯০-তে, ৯৬-তে আপনারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে, পাশে থেকে আন্দোলন করেছেন। এটা বলছেন না কেন?’ এ সময় আবদুল হালিম চুপ করে তার কথা শোনেন।

এ সময় জোটের অনেক নেতা ২০ দলকে যে কোনো মুল্যে ঐক্যবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। জামায়াতকে জোট থেকে বের করলে লেবার পার্টিও বেরিয়ে যাবে-এই সংক্রান্ত একটি খবরের বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের কাছে জানতে চান খালেদা জিয়া। এ সময় ইরান খবরটিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম এই ধরনের তথ্য সত্য নয়। এগুলো বানানো হয়। ২০ দলীয় জোটের ঐক্য নিয়ে আমার সবকিছু। এই জোটেই আছি, থাকবো।’

বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে আবদুল হালিম বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যে ডান-বাম যেই আসতে চায় আসুক, এতে জামায়াতের কোনো অসুবিধা নেই।’ শেষ পর্যন্ত ২০ দলের আয়োজনে জাতীয় ঐক্য হতে পারে বলে এক জোট নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এসব ছাড়াও রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে জোট নেতারা প্রকল্পের কারণে নানা ক্ষতি হবে বলে উল্লেখ করেন। এই বিষয়ে খুব শিগগিরই গবেষনালব্ধ তথ্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হজে যাওয়ার আগেই এই সংবাদ সম্মেলন হতে পারে।

এক্ষেত্রে জোট নেতারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, রামপাল অভিমুখে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা খালেদা জিয়ার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

এছাড়া গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধি এবং জঙ্গিবাদ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঢাকায় বড় ধরনের কনভেনশনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের প্লাটফর্ম দাড় করাবেন বলেও সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে ২০ দলের অন্য দলগুলো খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যে সমর্থন জানিয়েছে।

রাত পৌনে ৯ টায় বৈঠক শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে জোট নেতাদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্ণেল অলি আহামদ, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।