শিক্ষিকাকে শিক্ষকের চড়

আপডেটঃ ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২০, ২০১৬

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : মোবাইল ফোনে ভিডিও করায় সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার শিশুকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ আক্তারকে চড় মেরেছেন একই ভবনে অবস্থিত রেলওয়ে কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম।

গত বুধবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকার ছাত্র-ছাত্রী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

নির্যাতিত ওই শিক্ষিকা তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই আব্দুস সালাম বিভিন্ন লোক দিয়ে তাকে হুমকিধমকি দিচ্ছেন বলে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে বিলকিছ আক্তার তার মাছুমপুরস্থ ভাড়া বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘শহরের রেল কলোনিতে একই ভবনে শিশুকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এসবি রেলওয়ে কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। গত বুধবার সকালে ওই স্কুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শোকসভার আয়োজন করা হলে রেলওয়ে কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম শিশুকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ দু’টি তালা দিয়ে রাখেন।’

বিলকিছ আক্তার বলেন ‘বিষয়টি দুজনের মধ্যে সুরাহা না হওয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেককে জানাই। তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় ওই স্থানের দৃশ্য সংরক্ষণের জন্য মোবাইলে ভিডিও করার চেষ্টা করি। এসময় আব্দুস সালাম রাগান্বিত হয়ে শিক্ষা অফিসারের সামনেই আমার গালে চড় মারেন।’

নির্যাতিত শিক্ষিকা জানান, পরবর্তীতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিষয়টি অবগত করলে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন। পরে তাদের পরামর্শ নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি ডায়েরি করেন ওই শিক্ষিকা।

‘কিন্তু থানায় অভিযোগ দাখিলের পর থেকেই বিভিন্ন লোকজন দিয়ে আমাকে প্রাণনাশসহ চাকরিচ্যুত করার নানামুখি হুমকি দিচ্ছে’ বলেন বিলকিছ আক্তার।

এ সময় বিলকিছ আক্তারের বাবা ছব্দের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, চাকরি নেওয়ার পর থেকেই আব্দুস সালাম তার মেয়েকে বিভিন্ন হয়রানি করছে। এ ঘটনায় সালামের লোকজন বাসায় এসে আমাদেরকে আপোস করার জন্যও হুমকি দিচ্ছেন।

তিনি জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য লোক এলে তাদেরকে উল্টো-পাল্টা কথা বলে তাড়িয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় আমার মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং মেয়ের প্রতি যে নির্যাতন করা হয়েছে প্রশাসনের নিকট তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এদিকে আব্দুস সালাম জানান, মোবাইলে ভিডিও করার সময় শুধু হাত দিয়ে তার মোবাইল সরিয়ে দিয়েছি। তাকে থাপ্পড় মারা হয়নি।

জিডি তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পরবর্তীতে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেকের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।