কলমাকান্দায় ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষ

আপডেটঃ ৬:২২ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩১, ২০২২

মোঃ জাফর উল্লাহ, কলমাকান্দা, নেত্রকোনা সংবাদদাতা :নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বাকলা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ১২ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও নদী পাড়ের মানুষ। ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তবে এই ভাঙ্গন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কান্তপুর গ্রামে আরো ২ কি.মি ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কান্তপুর, নাজিরপুর বাজার, পশ্চিম নাজিরপুর ও ভবানীপুরসহ আরো চার গ্রাম। এবারের বর্ষার শুরুতেই ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। এদিকে নদী পাড় ভাঙ্গনে হতাশায় পড়েছে তীরবর্তী মানুষ। নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে একের পর এক জনপদ। সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের বর্ষায় বন্যার তীব্র ¯্রােতে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। এদিকে হতাশায় পড়েছে নদী পাড়ে বসবাসরত মানুষ। ইতোমধ্যে কান্তপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশিদ মাস্টার এর বাড়ি পর্যন্ত আরো প্রায় ১ কি.মি ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মাদরাসা। নিজস্ব উদ্যোগে ভাঙ্গন রোধে বাঁশ ও বালু ভর্তি বস্তা দিয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশিম আজাদ বলেন, বাকলা নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীর তীরবর্তী হাজারো মানুষ। নদী পাড়ের রাস্তা ও ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। ভাঙ্গনে আতঙ্কে আমার দিন পার করছি। এবারের বর্ষার শুরুতেই আরো বেশি ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় পানি নামার সাথে সাথে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানির স্রোত বেশি হওয়ায় নদী পাড়ে বাড়ি-ঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংসের মুখে রয়েছে। ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারাতে বসেছে নদী পাড়ের মানুষ। এব্যাপারে, নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এলাকাবাসীর আবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।