কলাপাড়ায় ড্রাগন চাষে সফল মোস্তফা

আপডেটঃ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩০, ২০২২

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের কানকুনিপাড়া গ্রামের মোস্তফা এখন ড্রাগন চাষে সফলতা লাভ করেছেন। নিজ বাড়িতে চার একর জমিতে ২০১২ সালে এলাকায় অপরিচিত ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন তিনি। নানান প্রতিকুলতাকে জয় করে ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক ভাবে সফল হন।
কলাপাড়ার সফল ড্রাগন চাষী মো. মোস্তফা জামান জানান, বর্তমানে তার ড্রাগন বাগানকে সমন্বিত বাগান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এতে রয়েছে কলা, লিচু, পেয়ারা, মাল্টা, পেঁপে, এলাচসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ। বাগানের মাঝখানে রয়েছে মাছের ঘের, গরু ও দেশি মুরগীর খামার। অনেকে তার সফলতায় উৎসাহী হয়ে ওই ইউনিয়নসহ কলাপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত ড্রাগন বাগান।
তিনি আরো বলেন, তার বাগানে ভিয়েতনামের ড্রাগন (বারি-১) এবং স্থানীয় দেশি প্রজাতির লাল, সাদা, হলুদ এবং গোলাপি এই চার রংয়ের ড্রাগন ফলন দিচ্ছে। লাল রংয়ের ড্রাগনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে  সে আরো ৯টি নতুন প্রজাতির ড্রাগন চারা সংগ্রহ করেছেন। তার খামারে সাগর, অগ্নিসাগর, সবরি, মোঁচাবিহীন লাল রংয়ের একাধিক প্রজাতির কলাগাছ ফলন দিচ্ছে। শুরুর দিকে কৃষি খামারটি তৈরি করতে সে পটুয়াখালী হর্টিকালচার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা নিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে তার খরচ হয়েছিল প্রায় দুই লক্ষ টাকা। কোন প্রকার রাসায়নিক সার এবং কিটনাশক ব্যবহার ছাড়া আট মাসে ফলন দেয়া শুরু হয়। আর সেই ফল বিক্রির টাকায় প্রথম লাভের মুখ দেখেন তিনি। তিনি এখন ওই বাগান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ড্রাগন চাষে নুতন উদ্যোক্তাদের সকল ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন। তার সফলতা দেখে এখন অনেক বেকার যুবক কৃষিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, ড্রাগন একটি জনপ্রিয় ফল। এ উপজেলা এসএসবি প্রকল্পের আওতায় সাতটি ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মোস্তফা জামানের বাগানটি উল্লেখযোগ্য। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছি।