জনশুমারি প্রশিক্ষণে খাবারে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটঃ ১১:৩০ অপরাহ্ণ | জুন ০৮, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টারঃজনশুমারি প্রশিক্ষণে খাবারে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিম্ন মানের খাবার ও খাবারের বরাদ্দ লুটের অভিযোগের মধ্য দিয়েই নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জনশুমারির গনণাকারীদের চাদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার সুপাভাইজার ও গনণাকারীদের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।
এর আগে শনিবার (৪ জুন) থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুপারভাইজার ও গনণাকারীসহ উপজেলা মোট ৩৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ২১৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের দ্বিতীয় পর্বে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজে  ২১৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে গনণাকারীদের প্রতিদিন চারশ করে মোট এক হাজার ৬০০ টাকা জন প্রতি দেওয়া হয়। এছাড়া গণনাকারীদের একটি করে ট্যাবলয়েড ফোন দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণার্থী সুপারভাইজার মাজহারুল ইসলাম, দৃষ্টি আক্তার, গনণাকারীশ শাকিল হাসান খান অভিযোগ করে বলেন,  প্রথমদিন সকাল বিকাল চা-নাস্তা দেওয়ার কথা থাকলেও কিছুই দেওয়া হয়নি। শুধু দুপুরে কিছু খাবার দেওয়া হয়েছে। শেষ দিনে দেওয়া হয়েছে আধফুটা বিরিয়ানি। এসব খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। আমাদের খাবারের টাকা সংশ্লিষ্টরা লুটপাট করেছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
গনণাকারী সুমন মাহমুদ ও আফরোজা আক্তার বলেন, আমাদের জন্য ভাল খাবার বরাদ্দ থাকার কথা অথচ এত নিম্ন মানের খাবার দেওয়া হয়েছে যা বলার ভাষা নেই। শুধু তৃতীয় দিনে জেলা কর্মকর্তা আসায় এদিন ভাল খাবার পেয়েছি আমরা। সকাল-বিকাল চা নাস্তা ঠিক মতো পাইনি কখনো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হাসি আক্তার খাবারের মান খারাপের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শহরের আনন্দ হোটেল থেকে খাবার অর্ডার করেছিলা তারা এত বাজে আধফুটা বিরিয়ানি দেবে ভাবতেও পারিনি। এটি দুঃখজনক। কাল হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে এর জবাব চাইবো। এছাড়া সহযোগী যে কয়জন ছিল তারাও এ কাজে গাফেলতি করেছে। এত মানুষ সামাল দেওয়াও কঠিন ছিল। সব মিলিয়ে তিক্ত একটা পার করেছি। পরবর্তীতে এমন ভুল যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহাম্মেদ আকুঞ্জি বলেন, খাবারের অনিয়মের বিষয়টি কয়েকজন প্রশিক্ষার্থী আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। পরিসংখ্যান কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে খাবার দিতে বলেছি। তারপরও যদি অনিয়ম থেকে থাকে বিষয়টি দেখবো।
বিষয়টি অবগত করলে জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,  খাবারের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। খুঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গনণাকারীরাই কষ্ট করে তথ্য সংগ্রহ করে আনবেন। তাদের খাবার যদি খারাপ হয় এটা মেনে নেওয়া যায় না।