বারহাট্টায় অবৈধভাবে গরুর হাট বসিয়ে টোল আদায় বন্ধের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটঃ ১১:১৫ অপরাহ্ণ | জুন ০৮, ২০২২

বারহাট্টা নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার বারহাট্টায় সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধভাবে জমানো একটি গরুর হাট বন্ধের দাবী জানানো হয়েছে। চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আহŸানে তার কার্যালয়ে বুধবার এগারটার দিকে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে জন প্রতিনিধি ও গণ্যমাণ্যসহ এলাকার শত শত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান চৌধুরী মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আপ্তাব উদ্দিন, চিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মঞ্জুরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা মো. সুরুজ মিয়া, মো. আলমগীর, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. পিয়ার উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে বলা হয়, চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটী মৌজার নৈহাটীবাজারে অবস্থিত ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার নামে পৃথক পৃথক ওয়াক্ফ্ করা জমি আছে। ওয়াক্ফ্ -এর বৈধতা নিয়েও আছে না না প্রশ্ন। কথিত ওয়াক্ফ্ এস্টেটভ‚ক্ত হাফেজিয়া মাদ্রাসার সাহায্যের নামে নৈহাটীবাজার সংলগ্ন চিরাম মৌজায় অবস্থিত একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে গরুর হাট বসিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নৈহাটী গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম ও তার ভাই মো. আলামীনের নেতৃত্বে একটি চক্র সপ্তাহে তিন থেকে চার লাখ টাকা টোল আদায় করছে। এই হাট থেকে বছরে কোটি টাকা টোল আদায় করা হয়। কেউ খোঁজখবর নিলে ওই চক্রের লোকজন বলেন যে, আদায়কৃত টাকা ওয়াক্ফ্ এস্টেটভ‚ক্ত হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দান করা হয়। কিন্তু, কি পরিমাণ টাকা আদায় হয় বা কত টাকা দান করা হয় এই হিসাব কাউকে দেওয়া হয় না। এমনকি, হিসাব চাওয়ার কোন কর্তৃপক্ষও নেই। তারা সরকারকেও কোন কর দেয় না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন যাবত ওয়াক্ফ্ এস্টেট -এর বৈধ কোন কমিটি নেই। খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় চক্রটির অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খোলতে রাজি হয় না। ২০২০ সালে করুনার দুর্যোগকালে র‌্যাবের সমর্থনে একটি মোবাইল কোর্ট গরুরবাজার বন্ধের চেষ্ঠা করলে তাদের উপর আক্রমণ করা হয়।
তারা আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সড়কগুলো হালকাযান চলাচলের উপযোগী করে তৈরী করা হয়। এইসব সড়কপথে প্রতি হাটবার উপলক্ষে গরুবোঝাই চার-পাঁচশত ভারী ট্রাক আসা যাওয়া করে। এতে সরকারের অর্থে নির্মাণ ও পাকাকরণকৃত সড়কগুলো খুব তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে গিয়েছে এবং মানুষজনের চলাচলে দূর্ভোগ সৃষ্ঠি হয়েছে। হাটবাজার সমূহ বৈধভাবে জমানো ও পরিচালিত হলে ইউনিয়ন পরিষদসহ সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং এই আয়ের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা যাবে।
সম্মেলনে বক্তারা নৈহাটী বাজার সংলগ্নস্থানে অবৈধভাবে জমানো গরুরহাটসহ এলাকার সকল অনিয়ম ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের দাবী জানান।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গরুর হাট পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত নৈহাটী গ্রামের মো. আলামীন মোবাইলে বলেন, ‘নৈহাটী গরু-হাটের অধিকাংশ জায়গা ওয়াক্ফ্ এস্টেটের আওতাভ‚ক্ত। ওয়াক্ফ্ এস্টেটের কমিটির মাধ্যমে বাজারটি পরিচালিত হয়। আমি এই কমিটির একজন সদস্য। কমিটি দায়িত্ব দেওয়ায় আমি গরুর হাট পরিচালনা করি। আয় যা হয়, তার সব হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার খাতে জমা হয়। এ ছাড়া, ওয়াক্ফ্ এস্টেটকে বছর বছর খাজনা পরিশোধ করা হয়। এস্টেটের অফিসার প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব অডিট করেন।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. মাজহারুল ইসলাম নৈহাটীবাজার সংলগ্ন চিরাম মৌজার একটি জমিতে গরুর হাট বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।