নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় খেলার মাঠে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মানাধীন ঘর ভাংচুর মামলায় দুইজন গ্রেফতার

আপডেটঃ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ | জুন ০৩, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টারঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নে বলাইশিমুল গ্রামের পাশে মাঠে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মানাধীন ঘর ভাংচুর ও পাহারাদারদের মারপিট করা হয়েছে।
এ অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী কাজী মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় বলাইশিমুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর তালুকদার মল্লিক ও সাবেক মেম্বার হায়দার আহমেদ তালুকদারকে গ্রেফতার করে শুক্রবার নেত্রকোণা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে বলাইশিমুল খেলার মাঠে যাদের ঘর নেই জায়গাও নেই সেই ভূমি ও গৃহহীন ২৫ টি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে নির্মানাধীন ঘর ভাংচুর করে দূর্বৃত্তরা।
এসময় পাহারাদার হিসেবে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা থাকলেও তাদের মারপিট করা হয়।
খবর পেয়ে রাত ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম ও কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ আলী হোসেন পিপিএম। এদিকে গভীর রাতে পুলিশ আলী আকবর তালুকদার মল্লিক ও হায়দার আহমেদ তালুকদারকে গ্রেফতার করে।
বলাইশিমুল গ্রামের হাওড়ে ১ একর ৮০ শতাংশ ভূমিতে একটি পুরোনো খেলার মাঠ রয়েছে। ওই মাঠে একাংশের ৫০ শতাংশ ভূমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পভূক্ত ২৫টি আধাপাকা ঘর নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।
এ খবর শুনে এলাকাবাসী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর মাঠে নির্মান না করার দাবীতে গত ২৮ মে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানায় পরদিন ২৯মে খেলার মাঠে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক বৈঠক হয়।
বৈঠকে খেলার মাঠ ঠিক রেখে মাঠের একাংশে ঘর নির্মানের সিদ্ধান্ত হলেও বলাইশিমুল গ্রামের হাবিবুর রহমান মন্ডল বাদী হয়ে ৩০ মে ইউএনওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৫ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (৩ জুন) দুপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মানাধীন ঘর ভাংচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোণা-৩ আসনের এম.পি অসীম কুমার উকিল, নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস।
তারা আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজে বাধা, ভাংচুর ও পাহারাদারদের মারপিটের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান, সেই সঙ্গে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ আলী হোসেন পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় এজাহারে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২জনকে গ্রেফতার করে নেত্রকোণা আদালতে পাঠানো হয়েছে।