টঙ্গীতে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

আপডেটঃ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ | মে ২২, ২০২২

নাঈমুল হাসান.টঙ্গী: টঙ্গীতে মরকুন এলাকায় ধারের টাকা পরিশোধ করার পরেও ডিস ব্যবসায়ী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন কে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে উক্ত এলাকায় নামকরা সুদ ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রফিকুল ইসলামের কাছে থেকে সুদে টাকা গ্রহন করে নিঃস্ব হয়েছে অনেকেই। তেমনি একজন ভুক্তভোগী মরকুন এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১২ মাসের কিস্তিতে ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ টাকা) টাকা ধার নেয় তোফাজ্জল হোসেন যাহার লভ্যাংশ ৬০,০০০ টাকাসহ টাকার পরিমাণ ৩,৬০,০০০ টাকা। প্রথম কিস্তি শুরু হয় ১৫ই মার্চ ২০১৯ ইং তারিখে। ২য় কিস্তিতে তোফাজ্জল গত ১৫ই জুলাই ২০১৯ ইং তারিখে ২০ হাজার টাকা লাভে আরো ১,০০,০০০ টাকা গ্রহন করে। টাকা লেনদেনে স্বচ্ছতার জন্য দুজনের কাছে দুইটি নোটবুক থাকার কথা থাকে। টাকা ধারের সময় চেকের পাতা দেওয়ার শর্তে এই লেনদেন হয়। যার ফলে রফিকুল ইসলামকে (৭১৭২৭০৯) নাম্বারের একটি চেক প্রদান করে তোফাজ্জল। কথা ছিলো টাকা পরিশোধ হওয়ার পর চেক ফেরত দিবে রফিক। পরবর্তীতে নোট বুকে সাক্ষরের মাধ্যমে নিয়মিত কিস্তু প্রদান করা হয় তবে করোনা মহামারীর কারণে কিছু সময় কিস্তি দিতে না পারায় রফিকুল ইসলাম – তোফাজ্জলের কাছে আরো কিছু টাকা দাবী করে। সর্বশেষ লেনদেনে সাক্ষী খলিলুর ও নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তোফাজ্জল ও রফিকুল ইসলামের সাথে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে বাড়তি কিছু টাকা লাভ দিলে রফিকুল ইসলাম চেক ফেরত দিয়ে দিবে। কিন্তু গত ৩১শে নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখ সর্বশেষ কিস্তির এক লাখ বিশ হাজার টাকা দেওয়ার পর রফিকুল ইসলাম ঘরের ভিতর থেকে এসে জানায়, চেকের পাতা খুজে পাওয়া যাচ্ছে না পরে আমি পাঠিয়ে দিব।

এ বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেন জানায়, গত ১৫ই জানুয়ারি ২০২০ইং তারিখ রফিকুল ইসলামের কাছে থেকে নেওয়া টাকা লভ্যাংশসহ তিন লক্ষ ঊনষাট হাজার টাকা পরিশোধ করি বাকি থাকে এক হাজার টাকা। এবং গত ১৫ই মে ২০২০ ইং তারিখে এক লক্ষ নয় হাজার টাকা পরিশোধ করি। আমি রফিকুল ইসলামকে সর্বমোট চার লক্ষ আটষট্টি হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি থাকে বার হাজার টাকা। পরবর্তীতে সকলের সম্মুখে সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে রফিকুল ইসলামকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দেওয়ার পর সর্বমোট দেওয়া টাকার পরিমাণ হয় পাঁচ লক্ষ অষ্টআশি হাজার টাকা। কিন্তু বহু চেষ্টার ফলেও তার কাছ থেকে চেক ফেরত পাওয়া যায় নি। রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানিসহ হুমকি প্রদান করে আসছে।

সুদ ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি তোফাজ্জলের কাছে টাকা পাবো। সে কোন টাকা পরিশোধ করেনি। আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

গাজীপুর সিটি কপোরেশনের ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদেক আলী বলেন,ভুক্তোভোগি তোফাজ্জল আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলো।আমি উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। রফিকুল সালিশে উপস্থিত হয় নি।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের পরিদর্শক(তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন বলেন, হয়রানি বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সিএনএ নিউজ/নাহা