স্বামীর সহযোগিতায় বাসরঘরে নববধূকে ধর্ষণ, দুলাভাই গ্রেফতার

আপডেটঃ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৪, ২০২২

অনলাইন ডেস্ক: বাসরঘরে স্বামীর সহযোগিতায় এক নববধূকে তার দুলাভাই ধর্ষণের অভিযোগে ধুনট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নববধূর বাবা শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় এ মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে।
শনিবার ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আলমগীর সিরাজগঞ্জ সদরের ভুরভুড়িয়া গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার নববধূ (১৮) ধুনট উপজেলার বিশ্বহারিগাছা গ্রামের এক কৃষকের মেয়ে। একই এলাকার সরোয়া-পাঁচথুপি গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ২৩ মার্চ মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়ের দিন রাতে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
নববধূকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেয় বরপক্ষ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নববধূ ও তার স্বামী ফরিদুল বাসরঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ফরিদুলের ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নববধূকে পান করায়। কিছুক্ষণ পর বাসরঘরের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে নববধূ। এরপর ফরিদুলের সহযোগিতায় আলমগীর হোসেন সকাল পর্যন্ত নববধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
পরের দিন (২৪ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নববধূ ঘুম থেকে উঠে দেখে আলমগীর হোসেন তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। আর তার স্বামী ফরিদুল ইসলাম একই ঘরের পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। নববধূ এ বিষয়টি তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালে তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। উল্টো নববধূকে মারধর করে। ২৫ মার্চ রাতেও একই কৌশল অবলম্বন করতে থাকে আলমগীর হোসেন। টের পেয়ে নববধূ তার বাবাকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি খুলে বললে স্বামীর বাড়ি থেকে তার বাবা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পরিবার স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে কোনো বিচার না পেয়ে অবশেষে আইনের আশ্রয় নেন। এক মাস পর ২৩ এপ্রিল তার পিতা বাদী হয়ে ধর্ষক আলমগীর হোসেন (৩০), বর ফরিদুল ইসলাম (২১), শ্বশুর ফেরদৌস আলম (৫৩) ও শাশুড়ি ফরিদা খাতুনের (৪৮) বিরুদ্ধে ধুনট থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে  গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের  গ্রেফারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নববধূর শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।