আর চোখে পরেনা শিল্পটি হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি শিল্প

আপডেটঃ ১০:২৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ২২, ২০২২

বদলগাছী(নওগাঁ)সংবাদদাতা : বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। যান্ত্রিক সভ্যতার এ যুগে অনেক ক্ষেত্রেই এসেছে পরির্বতন। যান্ত্রিক যুগের দাপটে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রামীন জীবনের অনেক ঐতিহ্য এমন একটি ঐতহ্য হলো ঢেঁকি শিল্প। কালের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রামীন পরশে মিশে এ শিল্পিটি। বলা যেতে পারে ঢেঁকি এখন স্বর্ন। অথচ এমন একদিন  ছিল ঢেঁকি আর গ্রাম বাংলা একসাথে গাঁথা।
ঢেঁকির ধপাস ধপাস শব্দে গ্রাম গুলো হলো মুখরিত কাকে ডাকা ভোর থেকে গ্রাম্য বধুরা আরম্ভ করত ধান ভাঙ্গানোর কাজ। ঢেঁকির ক্যারোর ক্যারোর শব্দেই ঘুম ভাঙ্গত অনেকের। ঢেঁকির সেই আওয়াজ আর নেই তার জায়গায় এসেছে যান্ত্রিক চালিত ধান ভাঙ্গার কল। ফলে ঢেঁকির কদর গেছে কমে। সুস্বাদ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাটা চাল এখন দু®প্রাপ্য বস্তু। ঢেঁকির নির্ভও এক শ্রেনীর লোক ছিল তারা ব্যবসা করত। অব্জল ভেদে তাদেও বলা হতো বাড়ানী বা কুটানী। তারাও চলে যাচ্ছে অন্যান্য পেশায়। দিনে দিনে ঢেঁকির কদর আর তেমন নেই। এমন একটি সময় ছিল গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে ছিল ঢেঁকির ঘর বা ঢেঁকি শ্যাল। ও বৌ ধান ভাঙ্গেরে ঢেঁকিতে পার দিয়া নানান ছন্দে গান গায় হেলিয়া দুলিয়া।
ঢেঁকি ঘরে এমন ছন্দ ও তাল উঠেনা। ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গা ছাড়াও চিড়া, গুড়া মসল চালের আটা সব কিছুই ছিল ঢেঁকি নির্ভর এবং স্বাদ-ই ছিল আলাদা। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে আমাদের গ্রাম বাংলা থেকে ঢেঁকি যেন কালক্রমেই হারিয়ে গেছে। ঢেঁকির ব্যবহার স্থান করে নিয়েছে যন্ত্র চালিত ধান ভাঙ্গার কল। এমনও দেখা যায় যে, ধান ভাঙ্গার কল বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধান ভাঙ্গারকাজ করছে। আর আমরা ক্রমেই ভুলে যাচ্ছি ঐতিহ্য বাহি গ্রাম বাংলার ঢেঁকি শিল্পের কথা। গ্রাম্য বধুরাও এখন আর ঢেঁকিতে পা রাখতে চায়না। আমরাও আর পাচ্ছিনা ঢেঁকি ছাটা চাল তথা ভিটামিন সমৃদ্ধ চাল। সরজমিনে এখনও দেখা যায় গ্রাম এলাকায় দুএকটি স্থানে ঢেঁকি কিছু আটা কুটার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। হয়তো কিছু দিনের মধৈ দেখা যাবে একেবার্ইে হারিয়ে গেছে ঢেঁকির অস্তিত্য। নতুন প্রজন্মের হাস্যকর হয়ে পড়বে।