রাশিয়ার ১৩৮০০ সৈন্য হত্যার দাবি ইউক্রেনের

আপডেটঃ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৬, ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২১ দিন আগে শুরু হওয়া আগ্রাসনে ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১৩ হাজার ৮০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।
ফেসবুক পোস্টে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ১৩ হাজার ৮০০ সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের সৈন্যরা রাশিয়ার ৪৩০টি ট্যাংক, এক হাজার ৩৭৫টি সাঁজোয়া যান, ৮৪টি বিমান, ১০৮টি হেলিকপ্টার ও ১১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এতে বলা হয়েছে, এই পরিসংখ্যান আনুমানিক এবং তীব্র লড়াইয়ের কারণে এই পরিসংখ্যান যাচাই করা জটিল।
গত ২ মার্চ রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় ইউক্রেনে ৪৯৮ রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করে। তারপর থেকে দেশটিতে অভিযানে যাওয়া সৈন্যদের হতাহতের ব্যাপারে আর কোনো হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি মস্কো।
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এর মাঝে প্রায় প্রত্যেকদিনই দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দফায় দফায় শান্তি আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি।
তবে বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের সাথে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কিছু অংশ নিয়ে মস্কো-কিয়েভ ঐকমত্যে পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে। কিয়েভ নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হওয়ার পর যুদ্ধরত দুই দেশ ওই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম যুদ্ধ অবসানের আশা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আরবিসি নিউজকে বলেছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে এখন গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‌‘এখন অত্যন্ত জরুরি এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি একেবারে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে রয়েছে; যা আমার দৃষ্টিতে চুক্তির কাছাকাছি।’
রুশ এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যাটোর সম্প্রসারণ ছাড়াই ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তার পাশাপাশি সম্ভাব্য একটি বিকল্প এবং নিরপেক্ষতার ব্যাপারে ফেব্রুয়ারিতে কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে লাভরভ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আলোচনা সহজ নয়। কিন্তু ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর কিছু আশা’ দেখা যাচ্ছে।
শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেনও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইতিবাচক একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ অবসানে আলোচনা করতে ইচ্ছুক ইউক্রেন। কিন্তু আত্মসমর্পণ করবে না অথবা রুশ হুঁশিয়ারি মেনে নেবে না।’