ঢামেকে মৃত ঘোষণা, কবরস্থানে নড়ে উঠলো নবজাতক

আপডেটঃ ২:২৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৬, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক:ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে শুক্রবার ভোর ৫টায় ইয়াসিন মোল্লা ও শাহীনুরআক্তার দম্পতির একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরই চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে ওই নবজাতককে একটি প্যাকেটে করে দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান ইয়াসিন মোল্লা। কিন্তু আজিমপুর কবরস্থানে মাটি দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তার কাছে না থাকায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় রায়ের বাজার কবরস্থানে।

সেখানে ৫০০ টাকা জমা দেন ইয়াসিন মোল্লা। কবর খোড়া শুরু করেন কর্মীরা। তখনই হঠাৎ করে হাতে থাকা হ্যান্ড গ্লাভসের প্যাকেটের মধ্যে শিশুটি নড়ে ওঠে। শিশুটিকে নিয়ে সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরে যান ইয়াসিন মোল্লা।

ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘আমার হাতের মধ্যেই বাচ্চাটা নড়ে ওঠে। পরে কবরস্থানের কর্মীরা আমাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে দেন। হাসপাতালে এলে চিকিৎসকরা বাচ্চাকে ২১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, সাড়ে ছয় মাসে শিশুটির জন্ম হয়েছে। শিশুটি অপরিণত। যে কারণে কিছু জটিলতা আছে। আইসিইউতে নিতে হবে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ খালি নেই। আমি পেশায় গাড়িচালক। বাইরে চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই ওয়ার্ডেই আছি।

ইয়াসিন মোল্লার বাড়ি গোপালগঞ্জে। ঢাকায় তিনি উত্তরা এলাকায় বসবাস করেন। এটি তাদের দ্বিতীয় সন্তান। তাদের নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।

ছুটিতে আছেন জানিয়ে এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা বলেন, আমি দুই দিনের ছুটিতে আছি। নবজাতকটির বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন। আমি আমার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সব কিছু দেখছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নবজাতকটি জীবিত আছে, ভালো আছে। হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।