ক্ষোভে ফুঁসছেন বিএনপির বহিষ্কৃতরা, জাহাঙ্গীরের কুশপুতুল দাহ

আপডেটঃ ১১:২১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৩, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক: ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে বিএনপি। দলীয় মহাসচিবের বাসায় ডিম-ঢিল মারার ঘটনাকে কেন্দ্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকে বহিষ্কার করায় নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বহিষ্কৃত নেতাদের কর্মী সমর্থকরা এই আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া এসএম জাহাঙ্গীরের কুশপুতুল দাহ করে করেন।

উত্তরার আজমপুর এলাকায় জাহাঙ্গীরের কুশপুতুল দাহ করার সময় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

তারা এসএম জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিল ও গুলশান কার্যালয়ের সামনে হামলার ঘটনায় তার শাস্তি দাবি করেন। ঝাড়ু মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মতিউর রহমান মতি, নাজিম উদ্দিন দেওয়ান, আমজাদ হোসেন ও শরীফ হোসেনসহ দলীয় নেতারা।

সদ্য বহিষ্কৃত উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আমি যখন একক উত্তরা থানা যুবদলের সদস্য সচিব ছিলাম তখন জাহাঙ্গীর ছাত্রদল করতো। সেই জুনিয়র ছেলে সবসময় আমাদের সঙ্গে বেয়াদবি করতো। সে কোনোদিন চায় না আমরা কোনো ভালো পদ পাই। এ নিয়ে তার সঙ্গে ঝামেলা তো আছেই।

তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে উত্তরা পূর্ব থানার সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার এলাকায় মহাসচিব থাকেন। তাকে আমরা পাহারা দিয়ে রাখি। মহাসচিবের বাসায় হামলা যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা শুনে ছুটে এসেছি। যেহেতু মহাসচিবের বাসা আমার বাসার কাছে। আমরা সেখানে গেলাম আর কালার হয়ে গেলাম। আমাদের বহিষ্কার করা হলো।

মতি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ২০১৭ সালে আমাদের ছেলেদের ম্যাডামের সামনে মারার পর তাকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু মহাসচিব বহিষ্কার করেননি। এরপরে গুলশানে গত ১২ সেপ্টেম্বর ম্যাডামের অফিসের সামনে হামলা করলো, সেটাতেও কিছু হলো না। এখানে উত্তরায় মহাসচিবের বাসার সামনে কারা কী করলো, সেই সালিশটা আগে করলো। আগের সালিশের খবর নাই, পরের সালিশ আগে হলো। তারাই মারামারি করলো, আবার তাদেরই নমিনেশন দেওয়া হলো। এখন আমরা জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার চাই ও অবশ্যই গুলশান হামলার বিচার চাই। ২০১৭ সালেরও বিচার চাই। এ বিচার না করলে প্রতিটি থানার মানুষ তাদের ধিক্কার জানাবে। ’

দক্ষিণ খান থানা ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী সদ্য বহিষ্কৃত নাজিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘আমরা জাহাঙ্গীরের বিচারের দাবিতে উত্তরার আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত ঝাড়ু মিছিল করেছি। জাহাঙ্গীরের কুশপুতুল দাহ করেছি। তার মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। তাকে বহিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে গুলশানে আমাদের দলের ১৭ জন নেতাকর্মীর মাথা ফাটিয়েছে, সেজন্য তার বিচার করতে হবে।’

গত ৯ অক্টোবর এসএম জাহাঙ্গীরকে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়ার পর ১০ অক্টোবর দলের শতাধিক নেতাকর্মী উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ডিম নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ১৮ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।