বলিভিয়াকে গুঁড়িয়ে শুরু ব্রাজিলের

আপডেটঃ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১০, ২০২০

ক্রীড়া ডেস্ক: ঘোর অনিশ্চয়তা ছিল নেইমারকে ঘিরে। কোচ তিতে জানিয়েছিলেন, দলের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটে পিঠের ব্যথা কাটিয়ে নেইমার একাদশে জায়গা করে নেওয়ায়। আর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর হাসিটা আরও চওড়া হয়েছে তাদের। বলিভিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অভিযান শুরু হয়েছে সেলেসাওদের গোলোৎসব করে। ঘরের মাঠে ব্রাজিল পেয়েছে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়।

শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে হওয়া ম্যাচে ব্রাজিলের উজ্জীবিত ফুটবলের সামনে পাত্তাই পায়নি বলিভিয়া। দলের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো। এছাড়া একবার করে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড কৌতিনহো এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেই ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস। অন্যটি ছিল আত্মঘাতী গোল। ম্যাচে গোলের দেখা না পেলেও জোড়া এসিস্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন নেইমার।

নিজেদের ঘরের মাঠের ম্যাচটিতে পরিষ্কার ফেবারিট ছিলো তিতের ব্রাজিলই। নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিতে একদমই সময় নেননি নেইমার-ফিরমিনোরা। যদিও প্রথম গোলটি করেছিলেন ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস। ম্যাচের ১৬ মিনিটের সময় দানিলোর মাপা ক্রসে ছয় গজের বক্সের মুখে দাঁড়িয়ে সহজ হেডে দলকে এগিয়ে দেন পিএসজি ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয় গোল পেতে অপেক্ষা খুব একটা লম্বা হয়নি। এবার দৃশ্যপটে হাজির হন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের বয়স যখন আধঘণ্টা হয়েছে, তখন সাজানো গোছানোর আক্রমণের নজির দেখান নেইমার-ফিরমিনোরা।

পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে খালি জায়গায় থাকা লোদির উদ্দেশ্যে বল বাড়ান নেইমার। সেখান থেকে আরও সামনে থাকা ফিরমিনোকে বাড়িয়ে দেন লোদি। তখন স্রেফ পা ছোঁয়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে হতো না ফিরমিনোকে। যা খুব সহজেই করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। তবে বলিভিয়ার সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটা স্পষ্ট করে দিয়েছিল ব্রাজিল। প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৩৬ মিনিট বলের নিয়ন্ত্রণ ছিলো ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের পায়েই। এসময়ের মধ্যে একবারের জন্যও আক্রমণে উঠতে পারেনি বলিভিয়া, শুধু সামলে গেছে নিজেদের রক্ষণ।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফিরমিনো। এবার স্কয়ার পাসে তাকে ডি-বক্সের মধ্যে বল এগিয়ে দেন নেইমার। প্রথম গোলের মতো এবারও ঠাণ্ডা মাথায় পা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন সুযোগসন্ধানী ফিরমিনো।

বলিভিয়ার বিপদ আরও বাড়ে ম্যাচের ৬৬ মিনিটের সময়। পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে বল পেয়ে বাইলাইন বরাবর এগুচ্ছিলেন কৌতিনহো। হঠাৎ থেমে ছোট্ট ক্রস বাড়িয়ে দেন নেইমারের উদ্দেশ্যে। তবে সেটি ইচ্ছে করেই ধরেননি নেইমার, যে কারণে বোকা বনে যান ডিফেন্ডার কারাসকো। এ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেই বল জড়িয়ে যায় জালে, আত্মঘাতী গোলে হালি পূরণ হয় ব্রাজিলের।

প্রায় ১১ মাস পর খেলতে নেমে এক হালি গোলে সন্তুষ্ট ছিল না ব্রাজিল। তাই মিনিট সাতেক পর আরও একবার বলিভিয়ার জাল কাঁপায় তারা। নেইমারের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রসে বলিভিয়ার দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে লাফিয়ে উঠে করা হেডে ম্যাচের শেষ গোলটিতে নিজের নাম লেখান কৌতিনহো।