ধর্ষণবিরোধী মিছিলে পুলিশের বাধা

আপডেটঃ ৩:০৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক:নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়নের বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বের করা কালোপতাকা মিছিলে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। এসময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র ইউনিয়নের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও তাতে যোগ দেন।

বিক্ষোভ শেষে কালোপতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দিকে যাত্রা করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

তাৎক্ষণিক বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, পুলিশ সাধারণ মানুষ, ছাত্রদের সঙ্গে পারলেও যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারে না। তখন তাদের লাঠির জোর কমে যায়। কারণ অধিকাংশই চাকরি পেয়েছে আওয়ামী লীগের বদৌলতে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স বলেন, আমাদের মিছিল থেকে কোনো উসকানি দেয়া হয়নি। সারাদেশে যে অব্যাহত ধর্ষণ চলছে আমরা তার প্রতিবাদ করছিলাম। পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আমাদেরকে নির্মমভাবে আটকে দিয়েছে।

মিছিলে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লিটন নন্দী, বর্তমান সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সাধারণ সম্পাদক রাগিব নাইম, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জওহরলাল রায় উপস্থিত ছিলেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়।

ওই ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় পরে সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছাত্র-জনতা। ঢাকার শাহবাগ ও উত্তরায় দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।