নির্ভয়ে সকালে খালি পেটে ফল খান

আপডেটঃ ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৫, ২০২০

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সুস্বাস্থ্যের জন্য ফল খাওয়া ভালো। বেশি করে মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত সবার। কারণ, এতে এনার্জি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ফল হাই ব্লাডপ্রেশার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হার্টের সমস্যা দূর করে। কারণ ফলে রয়েছে ফাইবার, যা খাবার হজমে সাহায্য করে।

ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পানি। ফল অ্যান্টি-অ্যাসিডিক। এতে থাকা অর্গানিক অ্যাসিড ও ন্যাচারাল হাই সুগার শরীর সুস্থ ও তাজা রাখে, সেই সঙ্গে দেহে এনে দেয় শক্তি বা বল। ফলে প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। তাই ফল খেলে মুটিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইমসমৃদ্ধ ফল আমাদের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত ফল খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা কমে। বার্ধক্যও প্রতিরোধ করে ফল। মেটাতে সাহায্য করে শরীরে ভিটামিনের প্রয়োজন। এনভায়রনমেন্টাল টক্সিন ডিটক্সিফাই করার জন্য অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন। আর ফল সেই প্রয়োজন মেটাতেও সাহায্য করে।

কিন্তু ফল খাওয়া নিয়ে নানা বিধিনিষেধও আছে — অনেকে বলেন রাতের বেলা ফল খাওয়া নিষিদ্ধ, কারও বা ধারণা খালি পেটে ফল খেলেই অ্যাসিডের প্রকোপ বাড়ে। ডায়েটিশিয়ানরা মনে করেন, ফল থেকে পূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়ার জন্য তা নির্দিষ্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে তবেই খাওয়া উচিত।

কিন্তু আপনি কি জানেন, ফল খাওয়ার সেরা সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে। তবে এর আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি খেয়ে নিতে হবে। হ্যাঁ, খালি পেটে ফল খেলে একেবারেই অ্যাসিড হবে না আপনার। এতে বরম আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম সজাগ হয়ে যায়। কারণ, রাতের অনেকটা সময় আপনার পেট খালি থাকে। তাই প্রথমে পানি খেয়ে আদ্রতার পরিমাণ বাড়িয়ে তারপর ফল খেয়ে নিন। এতে, দিনের শুরুতে শরীর চাঙ্গা হবে আপনার। প্রয়োজন হবে না চা কফির। সকালে খালি পেটে খেতে পারেন আপেল, কমলালেবু বা পেঁপে, কলা। মনে রাখবেন, এতে আপনার অ্যাসিডিটির পরিমাণও কমে যাবে।

রোজ সকালে একটা করে ফল খাওয়ার পর শরীর চর্চা করলে, উপকারিতা আরও। শরীরে থেকে কেটে যাবে দুর্বলতা। খালি পেটে ফল কখনই আপনার শরীরে ডেকে আনবে না অ্যাসিডের সমস্যা। খাবারের সঙ্গে স্যালাড না খেয়ে, খাবারের বেশ কিছুক্ষণ আগে ও পরে খেয়ে দেখুন উপকারিতা অন্যরকম।

তবে মনে রাখবেন, যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তারা দই, লবণ বা চিনি মিশিয়ে ফল খাবেন না। ফল খাওয়ার পরই পানি খাবেন না।

ব্যায়াম করতে যাওয়ার আগেও একটি আপেল বা কলা খেতে পারেন, তাতে প্রয়োজনীয় এনার্জির জোগান পাবে শরীর, খাওয়া যায় বাদাম-কিশমিশ-খেজুরের মতো শুকনো ফলও। উপোস ভাঙার পরেও ফল বা ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ সে সময়ে শরীর তার পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।

অনেকে বলেন, পেট ভরে খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে বা পরে ফল খাওয়া উচিত। তা না হলে অন্যান্য খাবারের হজম প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সময় লাগে। তাতে একদিকে যেমন পেট বেশি ভার হয়ে থাকে, তেমনই অন্যদিকে আবার কারও কারও পেট ফাঁপার সমস্যাও হতে পারে। তাই ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চের সঙ্গে সঙ্গেই ফল না খেয়ে একটু আগে বা পরে খেয়ে দেখুন কেমন লাগে। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন নিয়মগুলি খাটছে, তা নিজেই বুঝতে পারবেন।