রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলাবাসির রেলপথ স্থাপনের দাবি

আপডেটঃ ৫:০৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী(কুড়িগ্রাম)সংবাদদাতা:রেলপথ স্থাপনের দাবি জানিয়েছে রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলাবাসির। এই দুই উপজেলা বাসির প্রাণের দাবি রৌমারী থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে দেওয়ানগঞ্জ বাহাদূরবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ। সেখানে ব্রিটিশ আমলের থেকে রেল যোগাযোগ রয়েছে । এই ৪০ কি:মি রাস্তার রেল লাইন সংযোগ সম্প্রসারণ করা হলে বদলে যাবে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।
রৌমারী,রাজীবপুর উপজেলাসহ পার্শবর্তী চিলমারী এবং এই অ লের লক্ষ লক্ষ মানুষের আর্থ সামাজিক জীবনমান উন্নতি হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে যা অব্যাহত আছে। রৌমারী পর্যন্ত ৪০ কি:মি রেল লাইন সম্প্রসারন করা হলে এই অ লের কৃষি পণ্য, পাথর, বালু, বনজ সম্পদসহ ভারত বাংলাদেশ রৌমারীর স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত মালামাল পরিবহনে যুগান্তকারী সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ভারতের মেঘালয় ও আসামের গারো পাহাড়ের সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা। এখানে প্রায় ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৫৬ জন মানুষের বসবাস (আদমশুমারী ২০১১ অনুযায়ী)। এই দুই উপজেলার পূর্বে ভারত ও পশ্চিমে চিলমারী উপজেলার হাজার হাজার মানুষের নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে থাকে রৌমারী দিয়ে। স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এই এলাকার মানুষ রৌমারী পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগের দাবি জানিয়ে আসলেও তখনকার পাকিস্থানী শাষকগোষ্টি জনগনের এই দাবি আমলে নেয়নি। স্বাধীনতার পরবর্তী ৪৯বছর পেরোলেও আজ পর্যন্ত এই দুুই উপজেলায় রেল লাইন সম্প্রসারনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা দুটি অর্থনৈতিক ভাবে একটি গুরুত্ব পূর্ন, হিন্দু মুসলিম, অধ্যুষিত এই দুই এলাকা,একটি এলসি পোর্ট ও একটি বর্ডার হাট রয়েছে। অসংখ্য চর এলাকা রয়েছে। প্রতিদিন দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে এই চরে। সম্প্রতি ঢাকা রৌমারী সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সড়কের কাজ শেষ হলে জন দুর্ভোগ কিছুটা কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই রাস্তা দিয়ে এত পরিমান ওজন বহন করে ট্রাক যাতায়াত করে যা সড়কের স্থায়ীত্ব নিয়ে অভিজ্ঞ মহল যথেষ্ঠ সন্দীহান।
অপরদিকে দেশ বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের আগমন হবে সহজ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। প্রতি বছর সরকার পাবে মোটা অংকের রাজস্ব। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে । তার সাথে অংশীদার হতে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। বর্তমান সরকার বাস্তবমুখী উন্নয়নে বিশ্বাসী বলেই, এই এলাকার সকল স্থরের জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রত্যাশা, রৌমারী পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগ স্থাপন করেন।
খাদ্য উবৃত্ত উপজেলা হিসাবে খ্যাত, প্রতি বছর আমন ও ইরি-বোরো,গম মৌসুমে হাজার হাজার টন খাদ্য শষ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রেরন করা হয়। এ ছাড়া রৌমারীর স্থলবন্দর ভারত হতে আসা পাথর বহুতল ভবণসহ ব্রিজ কালভার্ট নির্মানের জন্য উৎকৃষ্ট কাঁচামাল। এই এলাকার চাষ হওয়া সোনালী পাট অর্থনৈতিক ভাবে এই অ লতে করেছে সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা রৌমারী সি.জি. জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। যা বর্তমানে মুক্তা ল নামে খ্যাত। ৭১ সালের স্বাধীনতার সময় সাহসী নারী যুদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির বাড়ি এই অ লে। সীমান্তে অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় ও আসাম প্রদেশ, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষায় এলাকায় রয়েছে বেশ কয়টি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ী। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষাসহ চোরাচালান রোধে তাদের দ্বায়ীত্ব পালনে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহ করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই উপজেলার সাথে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সদস্য সচিব শিপন মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমরা এই দাবি গুলো জানিয়ে আসছি রৌমারী পর্যন্ত রেল স্থাপনের জন্য। এই অ লে রেলপথ স্থাপন হলে আমাদের কষ্ট অনেক অংশেই লাঘব হবে।

রৌমারীর গণউন্নয়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক এসএমএ মোমেন বলেন, রৌমারী ও রাজিবপুরে রেল লাইন চালু হলে এলাকার মানুষের কষ্ট অনেকটা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। রেল লাইন চালু করার দাবী নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারক লিপিও দেওয়া হয়েছে।

গণকমিটির নির্বাহী পরিষদের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান জানান, বর্তমানে আমাদের দেশ উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ। যে দেশে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই পদ্মাসেতু র্নিমাণ কাজ করতে পারে, তাদের জন্য মাত্র ৪০ কি. মি. রেলপথ স্থাপন কোনা ব্যাপার না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছি।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান জানান, রৌমারী টু ঢাকায় প্রায় ৫০ টি বাস চলাচল করে। বেশি ভাড়া দিয়ে এলাকার শতশত মানুষ ঢাকায় যায়। রেল লাইন চালু হলে অল্প খরচে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে এলাকাবাসি। রেল লাইনটি চালু করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবী করছি।