যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন স্যালির তাণ্ডব, উপকূলে বন্যা

আপডেটঃ ১:৪৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা ও ফ্লোরিডা উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে ক্যাটাগরি-২ হারিকেন স্যালি। এতে গাছপালা উপড়ে গিয়েছে, উপকূলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুটি রাজ্যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাতেই মূলত ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। আলাবামা ও ফ্লোরিডার ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।

ঘূর্ণিঝড় স্যালি আছড়ে পড়তেই সমুদ্রের পানি রাস্তায় উঠে আসে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টি চলতে থাকলে বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যেতে পারে বন্যার পানিতে। বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাটে আরো তিন ফুট পর্যন্ত পানি বেড়ে যেতে পারে।

ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় আছড়ে পড়ে অ্যালাবামায়। উপগ্রহ চিত্র থেকেই বোঝা যাচ্ছে হ্যারিকেন স্যালির শক্তি কতটা ছিল। অ্যালাবামা, ফ্লোরিডা, মিসিসিপি টের পেয়েছে এই ঝড়ের শক্তি। অ্যালাবামাতে আছড়ে পড়ার পর এই ঝড় চলে যায় ফ্লোরিডা, মিসিসিপির দিকে। অ্যালাবামা, ফ্লোরিডা, মিসিসিপির দশ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই ঝড়ের ফলে।

ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়ি। বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ার পর প্রচুর মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অ্যালাবামাতে ন্যাশনাল গার্ডের দুইশ কর্মীকে পাঠানো হয়েছে উদ্ধারের জন্য।

ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল বুধবার সকালে। বিকেল পর্যন্ত তার তেজ বজায় ছিল। তারপর তা শক্তি হারায়। তারপরেও ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড় চলেছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি থামেনি। আরো কয়েকদিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অ্যালাবামা ও মিসিসিপির গভর্নর জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। অ্যালাবামার গভর্নর জানিয়েছেন, বিশাল এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছে। এরকম বন্যা সাম্প্রতিক সময়ে হয়নি। পানি আরো বাড়লে ক্ষয়ক্ষতিও পাল্লা দিয়ে বাড়বে।

ঘূর্ণিঝড় স্যালিকে অ্যামেরিকার ভয়াবহ সব ঝড়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, স্যালি প্রবল শক্তিমান ছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।