৩২ জেলায় দুর্ভোগে বানভাসী কয়েক লাখ মানুষ

আপডেটঃ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ২৯, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক: পদ্মা ও যমুনার পানি বেড়ে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশের ৩২ জেলায় দুর্ভোগে বানভাসী কয়েক লাখ মানুষ। তীব্র ভাঙন দুর্গতদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়েছে। গাইবান্ধা, রংপুর ও ফরিদপুরে বাধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে গেছে শিমুলিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাট।

করোনা তার সাথে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশের ৩২ জেলার কয়েক লাখ পানিবন্দি মানুষ দিন কাটাচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তাদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়েছে। বিভিন্নস্থানে নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে বহু মানুষ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের হিসেবে বর্তমানে ১৯টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

মুন্সিগঞ্জে পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে গেছে শিমুলিয়ার তিন নম্বর রোরো ফেরি ঘাট। ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি নৌরুটের যাত্রীরা। পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকে পড়েছে শতশত যানবাহন। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটেও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাঙ্গালী নদীর ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ।

রংপুরের গংগাচড়ায় তিস্তার পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে শংকরদহ গ্রামের সংযোগ সড়কের ৩শ’ মিটার অংশ। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। কুড়িগ্রামে আমন ধানের বীজতলা নিয়ে বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। বগুড়ায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি বেড়ে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জে এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে ৬ উপজেলার প্রায় আড়াই’শ গ্রাম।

নাটোরের আত্রাই নদীর পানি আবারো বেড়েছে। জেলার সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর বাঁধ সংস্কারে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। টাঙ্গাইলে পানি ঢুকছে উপমহাদেশের বিখ্যাত কুমুদিনী হাসপাতালে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। জামালপুরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ফরিদপুর সদরের সাদীপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফের ভাঙনে ৪৫ মিটার ধসে গেছে। এতে ওই এলাকায় নতুন করে পানি ঢুকতে শুরু করে।

মানিকগঞ্জে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। মুন্সীগঞ্জে বন্যার পানি দীর্ঘ দেড় মাস অবস্থান করায়, জেলার ৩ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে। মাদারীপুরের পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। রাজবাড়ীতে দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬০ হাজার মানুষ।