সরকারের পদত্যাগ দাবি রিজভীর

আপডেটঃ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৪, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল মিডনাইট সরকার দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি।

‘বিএনপি এখন মানসিকভাবে বিপন্ন। বিএনপি নিজেরাই জনরোষের ভয়ে আতিঙ্কিত। করোনার বেপরোয়া চালকের মতো তারা রাজনীতিতেও বেপরোয়া আচরণ করছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যর প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, এ কথার জবাব দিয়ে তার গুরুত্ব বাড়ানোর দরকার আছে বলে বিএনপি মনে করে না। তার এই কথায় প্রতিয়মান হয় যে, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল মিডনাইট সরকার দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে। তাদের চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। নিজেদের আয়নায় এখন কেবল জনগণের দল বিএনপিকে কল্পনা করছেন তারা।

কাদের সাহেবের কথাটা হবে ‘আওয়ামী লীগ জনরোষের আতঙ্কে আছে।’ কিন্তু তিনি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছেন কথাটা। নিজেদের অবস্থাটা এখন অন্যের মধ্যে দেখতে চাচ্ছেন। অনুভব বা অনুমান করছেন যে, তাদের কী ভয়াবহ অবস্থা। আর বিএনপি আতঙ্কিত হবে কেন? বিএনপি কি চাল চুরি, তেল চুরি, ত্রাণ চুরি, করোনার টেস্ট কিট দুর্নীতি, ব্যাংক লোপাট, রাজকোষ চুরি, শেয়ার বাজার লুণ্ঠন, রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ডাকাতির কাজে লিপ্ত ছিল কি? সুতরাং জনরোষের ভয়ংকর আতংকের মধ্যে আপনারা এখন প্রলাপ বকছেন।

সারাক্ষণ আতঙ্কে কাটে আপনাদের। চারদিকে আপনাদের অপকর্মের স্তুপ এতো বিকট আকার ধারণ করেছে যে, বিএনপিকে গালমন্দ করা ছাড়া এই মুহূর্তে আপনাদের স্টকে আর কিছু নেই। তাই প্রলাপ বকেন আর বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করেন। যদি সৎ সাহস থাকে তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তখন দেখা যাবে কারা জনরোষে পড়ে।

তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেই একযুগ। গণতন্ত্র হত্যা করে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নানা অপকৌশলে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, বিএনপিকে দুর্বল করতে বছরের পর বছর ধরে সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে, বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে গুম-খুন অপহরণ করা হয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে র‌্যাব পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। এতো কিছু পরও বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। আর যায়নি বলেই, ওবায়দুল কাদের কিংবা হাছান মাহমুদদেরকে প্রতিদিন নিয়ম করে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে হলেও জনগণের সামনে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত এপ্রিলে ওবায়দুল কাদের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটর করছেন। নির্দেশনা দিচ্ছেন, তদারকি করছেন’। জনগণ জানতে চায়, প্রধানমন্ত্রী যদি করোনা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করেন তাহলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হসপিটাল’ করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের অনুমতি পেলো কেমন করে? মরণঘাতী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যখন সারাবিশ্বে এর প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে কাজ করছে, তখন এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নেয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে, প্রধানমন্ত্রী জানেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানেন না তাহলে জানবেটা কে? এমন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে চাইলে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গোটা সরকারেরই খোলনলচে পাল্টাতে হবে। অর্থাৎ প্রধামন্ত্রীসহ এই সরকারের পদত্যাগ করতে হবে।